পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মুরগির বাজারে আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। তবে মুরগির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে।বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার, মেছুয়া বাজার, সানকিপাড়া বাজার, শম্ভুগঞ্জ ও মিন্টু কলেজ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে অনেক। বর্তমানে ময়মনসিংহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে, যা এক মাস আগেও ছিল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম ২৫০-২৬০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে দেশি মুরগির ক্ষেত্রে। মাসখানেক আগে যে দেশি মুরগি ৪০০-৪৫০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা কেজি দরে।
মুরগির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। সানকিপাড়া বাজারে আসা ক্রেতা আনিস ফারুক আক্ষেপ করে বলেন, রোজার শুরুতে এক দাম ছিল, এখন ঈদের আগে আরেক দাম। এক মাসে দেশি মুরগির দাম কেজিতে ২৫০-৩০০ টাকা বেড়ে যাওয়াটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হতে পারে না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। একই বাজারের আরেক ক্রেতা রোমন সরকার বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, মুরগির দাম তত বাড়ছে। যে টাকা বোনাস পেয়েছি তা বাজার করতে করতেই শেষ। বাজার মনিটরিং না থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায়।বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ার পেছনে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন। নতুন বাজার এলাকার ব্রয়লার হাউজ -এর মালিক মো. কামাল জানান, রমজানের ঈদের আগে মুরগির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে আগের মতো মুরগি আসছে না। সানকিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, পাইকারি বাজারেই আমাদের চড়া দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। ঈদের আগের দিন দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।ময়মনসিংহের বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ও সিম ৫০ টাকা এবং লেবু হালিপ্রতি ৩০-৫০ টাকায় নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে মানুষ শহর ছাড়তে শুরু করায় এবং কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকায় সবজির বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি কিছুটা কম। যার ফলে দাম খুব একটা বাড়েনি।