একুশে বইমেলার শেষদিন আজসংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরুকুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলাচার বিভাগে বাড়তে পারে বৃষ্টি, বাড়ছে তাপমাত্রানতুন নোট দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শাখায় গিয়ে পাচ্ছেন না গ্রাহক
No icon

নতুন নোট দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শাখায় গিয়ে পাচ্ছেন না গ্রাহক

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতিদিনই ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী নতুন নোট দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। তবে আগের মতো আর বিশেষ কাউন্টার খুলে নোট বিনিময় করা হচ্ছে না।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের চলতি হিসাব থাকে। এই হিসাবে টাকা জমা ও উত্তোলন ব্যাংকগুলোর একটি নিয়মিত কাজ। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলোর নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময়েরি ইস্যু করা নতুন ছাপানো নোট প্রচুর  ছাড়া হয়। ছেঁড়াফাটা, অতি দাগসহ বিভিন্ন কারণে যেসব নোট প্রচলনে দেওয়ার মতো থাকে না তার বিপরীতে ছাপানো এসব নোট বাজারে আসে। আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হতো। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা তদারকি করত। এখন ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে টাকা নিয়ে বিতরণ করছে।অনেকেই অভিযোগ করছেন, তদারকি না থাকায় ব্যাংকাররা নিজেদের পছন্দের গ্রাহককে নতুন নোট দিচ্ছে বেশি, বিশেষ করে বিভিন্ন করপোরেট গ্রাহক, আত্মীয়স্বজন পরিচিতজনদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। যে কারণে সাধারণ কেউ গিয়ে অধিকাংশ ব্যাংক শাখায় গিয়ে নতুন নোট পাচ্ছেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শাখা থেকে বলা হচ্ছে নতুন নোট বিনিময় হচ্ছে না।

এদিকে ফুটপাতে পর্যাপ্ত নোট বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এই নোট তাদের হাতে কীভাবে আসছে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। চাহিদা মেটাতে অনেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে কিংবা গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে চড়া দরে নতুন নোট কিনছেন। ১০০ পিসের একটি বান্ডেলে ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে নতুন নোট বেচাকেনা হচ্ছে। ব্যাংকে না পেলেও এরা কীভাবে পায় তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি যুক্ত নোটের স্থলে নতুন ডিজাইনের নোট ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণভাবে নতুন ডিজাইন প্রণয়নের পর বাজারে ছাড়তে ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। নতুন ডিজাইনের মধ্যে ২০০, ১০ ও ৫ টাকা এই তিন ধরনের নোটে স্থান পায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের আঁকা গ্রাফিতি। এ ছাড়া সব নোটেই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যর বিভিন্ন নিদর্শনকে স্থান দেওয়া হয়। জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন ডিজাইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত এই ডিজাইনের নোট ছাপা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোটও বাজারে দেওয়া হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি নোটের ডিজাইন ঠিক করতে কয়েকটি বৈঠক করা হয়। ডিজাইন ঠিক করার পর প্রিন্টিংয়ের জন্য প্লেট তৈরি হয়। এরপর নিলাম প্রক্রিয়ায় কাগজ, কালি আমদানি করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কাগজে জলছাপের ছবি কী হবে এবং কোথায় নিরাপত্তা সুতা বা অন্য ফিচার থাকবে তা ঠিক করে দিতে হয়। সাধারণভাবে দেশের বাইরে থেকে এসব কাগজ আমদানি হয়। নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী কাগজ প্রস্তুত করে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে দেওয়া হয়।