দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেতহরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পেরস্থানীয় সরকার নির্বাচন এক বছরের মধ্যেইখাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের অনাগ্রহতিস্তা নিয়ে ভারতের জন্য অপেক্ষা করবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
No icon

তিস্তা নিয়ে ভারতের জন্য অপেক্ষা করবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তিস্তার পানি সংকট সমাধানে ভারতের জন্য অপেক্ষা করবে না বাংলাদেশ। এ সংকট কাটাতে যে ক টি উপায় রয়েছে, সবগুলো নিয়ে কাজ করবে ঢাকা।মঙ্গলবার চীন সফরে যাওয়ার আগে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।চীনে উচ্চপর্যায়ের এই সফর নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বড় বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগে ভারত সফর করবেন, নাকি চীন এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি এখনও জানি না। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। বিষয়টি শুধু আমাদের নয়, যে দেশে সফর সেই দেশের প্রধানের সুবিধাও দেখতে হবে। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী সে সময় থাকবেন কিনা, ইত্যাদি। অনেক কিছু বিচার্য বিষয় রয়েছে।

বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে চীনের সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু দেশ। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমি চীন যাচ্ছি। দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর করা ও ব্যাপ্তি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পারস্পরিক সহযোগিতামূলক প্রকল্প ও কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছি। এ সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতার চাইতেও ওপরে নেওয়া যায় কিনা, এ নিয়ে আমরা আলোচনা করব।চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই তিস্তা নিয়ে আলোচনা হবে। এটি আমাদের উত্তরাঞ্চলের বাঁচা-মরার বিষয়। এ অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে। তিস্তা পারের মানুষ বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এটি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়। আমরা যেভাবে পারি, যে ক টি উপায় রয়েছে, সবগুলো উপায় নিয়ে কাজ করব। সবচেয়ে বড় বিচার্য বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশ সবার আগে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত চীনের চারটি প্রধান উদ্যোগ বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই), বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ (জিএসআই), বৈশ্বিক সভ্যতা উদ্যোগ (জিসিআই) এবং বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগে (জিজিআই) বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের যৌথ বিবৃতিতে থাকবে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বড় জয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা নিয়ে ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরকার গঠন হয়নি। তারা কী ভাবছে বা কী করবে, তা না জানালে তাদের মন আমি পড়তে পারব না।তিস্তা নিয়ে ভারতের কাছে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যাশা থাকবে, যে চুক্তিটি হয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেচনায় নেওয়া যায় কিনা। তবে এর জন্য তো আমরা বসে থাকতে পারি না। আমাদের কাজ আমরা করব।

পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে পুশ ইনের কোনো আশঙ্কা রয়েছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী কথাটি বলেছিলেন, স্বীকার করেছিলেন যে তিনি কিছু কাজ করেছেন। আমরা সেটির কড়া প্রতিবাদ দিয়েছি, সে বিষয়ে আমাদের যা যা ব্যবস্থা আমরা নেব।নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী জুনের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন যাওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি। বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে তা নিয়ে আলোচনা হবে।বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদী তিস্তার বাংলাদেশ অংশে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নিয়ে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছিল। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দিল্লি থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে যতটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সংরক্ষণে মনোযোগ দেয় ঢাকা। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নদী খনন ও ভূমি পুনরুদ্ধারসহ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয় ঢাকা-বেইজিং। সেই থেকে তিস্তা নিয়ে কাজ করতে থাকে চীন।