বিএনপির তিন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ আজবেলুচিস্তানে সেনা অভিযানে ৯২ সন্ত্রাসীসহ নিহত ১২৫সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে আজবিএনপির মিত্ররা ভোটের মাঠে ভালো নেইঅপরিবর্তিত থাকতে পারে তাপমাত্রা
No icon

সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে আজ

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ আজ রবিবার থেকে ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল শনিবার শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুমের ভ্রমণ সময়। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকে। তবে এ বছর সরকার ভ্রমণের সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, গতকাল সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটকদের নিয়ে আসবে। আজ থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার যদি পরবর্তী সময়ে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এমএ আবদুর রহমান বলেন, অনেক মানুষ সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের চেয়ে লোকসানে পড়েছেন। অতীতে দ্বীপে এমন সংকট দেখা যায়নি। আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ শুরু হবে। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। যদি সময়টা আর একটু বাড়ানো যেত, তাহলে আগামী ৯ মাস কোনোভাবে পার করা সম্ভব হতো। দ্বীপের রিকশাচালক রহিম উল্লাহ বলেন, আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ। কাল থেকে আমাকে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি, কিন্তু দুই মাসেও সেই টাকা তুলতে পারিনি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব।এদিকে দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। সরকারি নির্দেশনানুযায়ী, সেন্টমার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ যে কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। ভ্রমণের সময় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।