বিএনপির তিন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ আজবেলুচিস্তানে সেনা অভিযানে ৯২ সন্ত্রাসীসহ নিহত ১২৫সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে আজবিএনপির মিত্ররা ভোটের মাঠে ভালো নেইঅপরিবর্তিত থাকতে পারে তাপমাত্রা
No icon

বিএনপির মিত্ররা ভোটের মাঠে ভালো নেই

আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে সঙ্গে থাকা বিএনপির মিত্র দলগুলো সমঝোতা করে ভোটে নেমেও চাপে পড়েছে। শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আট আসনে একটি বাদে সাতটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয়। এসব আসনে দলটির নেতাকর্মীদের অসহযোগিতায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন মিত্র দলের প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব না মেলায় অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।একই সঙ্গে কয়েকটি ছোট দলের নেতা বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীক নিলেও তাঁরা অস্থিরতার মধ্যে পড়েছেন। দলত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী।এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সমকালকে বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলে অনেক ত্যাগী আর যোগ্য নেতা রয়েছেন। বিগত দিনে যাদের অবদান অনেক। তবে দেশের স্বার্থে, রাজনীতির স্বার্থে অনেক স্বার্থকে ত্যাগ করতে হয়। অনেকে সেটা পারেননি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে জোট নেতাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করছি সমঝোতায় ছেড়ে দেওয়া প্রতিটি আসনে তারা বিজয়ী হবেন।

জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন ২৯২ জন। বাকি আট আসনে বিএনপির মিত্র দলের প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি আসনে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি আসনে লড়ছেন।এর বাইরে ধানের শীষ প্রতীকে নড়াইল-২ আসনে এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর-৫ জমিয়তের একাংশ মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস, ঝিনাইদহ-৪ গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএলডিপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। এর মধ্যে বিএলডিপি ও জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতারা বিএনপিতে যোগদান করেন। রাশেদ খান দল ত্যাগ করে বিএনপিতে এসেছেন। ববি হাজ্জাজও নিজের দল ত্যাগ করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েছেন।

মিত্র দলের সঙ্গে সমঝোতায় আসন ছাড় দেওয়ার মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসন থেকে কোদাল মার্কায় নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির বিদ্রাহী প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব রয়েছেন। তিনি ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে যাওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নীরবকে দেওয়া হয়েছিল। পরে জোটের কারণে এই আসনটি সমঝোতায় যেতে হয় দলকে।এই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, এ আসনটি নিয়ে আগে থেকেই বিএনপির দুটি অংশ বিভক্ত। এর মধ্যে একটির নেতৃত্বে সাইফুল আলম নীরব এবং অপরপক্ষে সাবেক কমিশনার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন।এর মধ্যে আনোয়ার হোসেনের অংশটি পুরোপুরি সাইফুল হকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা তাঁর পক্ষে দিনরাত কাজ করছেন। অপরদিকে নীরবের পক্ষে তাঁর অনুসারী নেতাকর্মীরাও প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আসনটিতে কোদাল এবং ফুটবল প্রতীকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ট্রাক মার্কায় নির্বাচন করছেন। বিএনপির সঙ্গে এই আসন সমঝোতা হলেও ছাড় দেননি দলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। দল থেকে পদত্যাগ করে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে এই আসনের দুই উপজেলা দশমিনা ও গলাচিপা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় দল। তবে এতে হিতে বিপরীত হয়েছে। বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরা আরও জোরেশোরে মামুনের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন। বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীনসহ জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এই আসনে ভিপি নুরের সঙ্গে মামুনের ভোটের মাঠে তীব্র লড়াই হবে।গলাচিপা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সত্তার হাওলাদার জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর গলাচিপা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন হাসান মামুন। তৃণমূলের সিদ্ধান্তে তিনি নির্বাচন করছেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে আছি। হাসান মামুন দলের দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন। দল আমাদের যত কঠোর শাস্তি দিক মাথা পেতে নেব।