চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তির প্রতিবাদে শ্রমিক সমাবেশ করছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। চুক্তির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “শ্রমিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না।” তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই বন্দর দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, মেয়াদ, আর্থিক সুবিধা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা না করে, বন্দরসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত না নিয়ে এবং চুক্তির বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশ না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না। জনগণ সরকারকে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করার ম্যান্ডেট দেয়নি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও বিএনপি অতীতে এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। তাহলে এখন কোন স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা জাতি জানতে চায়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চুক্তির সব শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করে এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত থাকলে তা বাতিল বা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে কোনো বিদেশি স্বার্থ বা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা তৈরি হোক, তা দেশের জনগণ চায় না। বন্দরের কর্তৃত্ব ও জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সভাপতি বলেন, প্রয়োজনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ, অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। জীবন ও রক্তের বিনিময়েও চট্টগ্রাম বন্দর, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাঁরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবি জানান। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত প্রতিটি টার্মিনালে অন্তত ২০ শতাংশ দক্ষ দেশীয় জনবল নিয়োগের শর্ত আরোপ এবং এনসিটিতে বন্দর ও শ্রম শাখার আওতাধীন শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজের সুযোগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ, কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, আখতারুজ্জামান, আব্দুল মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. জিয়াউল হক, দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। সমাবেশ থেকে এনসিটি পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বিবেচনা, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনায় দেশীয় সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বার্তা প্রেরক
আতাউর রহমান
সিনিয়র রিপোর্টার