জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগাজার স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ডব্যাংককে আজ ইউনূস-মোদি বৈঠকএপ্রিলে বাড়বে তাপমাত্রা, রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
No icon

ভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ

সময় যত গড়াচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ততই বাড়ছে। সরকারের নিয়োগকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নতুন দল নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারে যুক্ত থেকে নতুন দল গঠন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ভালো চোখে দেখছে না রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কাজে নিরপেক্ষতা হারাতে বসেছে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষ ধরে নেবে এই সরকারের দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে না। তাদের মতে, সরকারের ছত্রছায়ায়া রাজনৈতিক দল গঠন হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করবে। তাই নির্বাচনের দিনক্ষণ যত সামনে আসবে, সরকারের অবস্থান ততই পরিষ্কার হবে। আর রাজনৈতিক বিভেদও বাড়তে থাকবে।গত বুধবার বিবিসি বাংলা অনলাইনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার যদি পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন করে, তাহলেই তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা পর্যন্ত থাকবে। তা না হলে তো নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে। এর এক দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার আরও কড়াঅবস্থানে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বেশ কিছু বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা পালন করতে পারছে না।

বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্যে গভীরতা অনুধাবন করে কঠোর সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটি এক-এগারো সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে।সরকারের এই উপদেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি কয়েক দিন আগে মাইনাস টুর আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের নামে আরেকটি এক-এগারো সরকারের প্রস্তাব করছে। এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এবং ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না।এই রাজনৈতিক বক্তব্যের বাহাসের মধ্যেই ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার সময়সীমা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা আসবে।গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তখন থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, নতুন দল গঠনের জন্যই অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিচ্ছে না। আর নির্বাচনের রোডম্যাপ না পাওয়ায় সরকারের প্রতি বিএনপিসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী দলগুলোর মধ্যে অবিশ^াস সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, উপদেষ্টাদের কেউ রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়ে করবে। একই সঙ্গে সরকারের কাজে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গতকাল এই বাহাসে যোগ দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহও। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল একাধিক পোস্ট করেছেন। এক পোস্টে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জুলাই স্পিরিট ধারণকারী ছাত্র-জনতার সম্মিলনে যখন নতুন একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান হওয়ার আভাস পেল, ঠিক তখন বিএনপি সেটিকে চিহ্নিত করল তাদের দলীয় স্বার্থের হুমকি হিসেবে।হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি এ কথা ভুলে গেল, গণ-অভ্যুত্থানের ফলে গঠিত হওয়া সরকারের ম্যান্ডেট ষাট-সত্তর ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হওয়া রাজনৈতিক দলের চেয়েও বেশি। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের কাঠামোগত পরিবর্তন করার সময় ও সুযোগ এলো, অথচ বিএনপি দেশ পুনর্গঠনের এই সুযোগকে অবমূল্যায়ন করে হাজির হলো ১/১১ সরকারের ফর্মুলার আলাপ নিয়ে।এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, তথ্য উপদেষ্টা এক-এগারো ইঙ্গিত কীভাবে পেলেন? বিএনপি মহাসচিব ঠিকই বলেছেন, যদি সরকার পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন না করে তাহলে নিরপেক্ষ সরকার দরকার হতে পারে; এটাতো সঠিক কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, ছাত্ররা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। দল তারা গঠন করতেই পারে। গণতান্ত্রিক দেশে দল গঠন হবে, সেটা দোষের কিছু না। তবে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া দরকার, নতুন রাজনৈতিক দলের সরকারের কোনো সহযোগিতা থাকবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, এরই মধ্যে এই (অন্তর্বর্তী) সরকার তাদের নিরপেক্ষতা সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ রকম চলতে থাকলে কিছু দিন পর মানুষ ভাববে এই সরকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার কোনো সক্ষমতাই নেই। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সঙ্গে আমি খুবই একমত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলতে মোটা দাগে এমন একটা সরকার বোঝায়, যারা নির্বাচন পরিচালনা করবে; কিন্তু তাদের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। নিজেরা বা তাদের পরিচিত কেউ বা তাদের ক্লোজড কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, যদি কেউ নির্বাচনে যায়, তাহলে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে যাবেন। তার মানে সে তার এলাকা পুরো গুছিয়ে নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করবেন। এটাতো হলো না। উনি এখন উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবেন শেষ মুহূর্তে পদত্যাগ করবেন- এটা তো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাকে সমর্থন করল না।