বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধকে কেন্দ্র করে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই সমুদ্রপথটি যুদ্ধের পূর্বাবস্থায় আর ফিরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিদ্যমান সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে আরব রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই ইরানের সাথে নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক সমঝোতায় আসতে হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক সুলতান বারাকাত বলেন, "বর্তমান বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালী আগের মতো স্বাভাবিক হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। চলমান পরিস্থিতির পর ইরান আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সম্পর্কিত সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক জাহাজগুলোকে এই প্রণালী দিয়ে অবাধে চলাচল করতে দেবে না।"
অধ্যাপক বারাকাত আরও জানান, চলমান অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেই। তাদের রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। বিশ্ববাজার কেবল উপসাগরীয় পণ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে না; আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ইতিমধ্যেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে নিতে শুরু করেছে। যদিও সাময়িকভাবে পণ্যের দাম বেড়েছে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এখন পর্যন্ত মারাত্মক সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী এই স্থবিরতা এড়াতে আরব দেশগুলোকে অবশ্যই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে এবং নিজেদের অর্থনীতি রক্ষায় সমঝোতার পথ বেছে নিতে হবে।