ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তার বিশ্বাস।এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কিন সিনেট ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না।ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান এখন সমঝোতার পথে আসতে আগ্রহী। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে দেশটি চাপে রয়েছে এবং তারা নতুন করে আলোচনায় বসতে চায়।একই সঙ্গে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ এখনও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ওই হামলায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশ এতে প্রভাবিত হয়।যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। পরে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।