জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগাজার স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ডব্যাংককে আজ ইউনূস-মোদি বৈঠকএপ্রিলে বাড়বে তাপমাত্রা, রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
No icon

সারি সারি বহুতল ভবন, কারও নেই অনুমোদন

রাজধানীর বছিলায় গড়ে উঠেছে মোহাম্মদপুর ফিউচার টাউন হাউজিং । এ হাউজিংয়ের ডি ব্লকের অ্যাভিনিউ রোডের ২ নম্বর প্লটে সারা বিল্ডার্স নির্মাণ করছে ১৪ তলা ভবন। ছয় তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক, বাকিটা আবাসিক। ১৪ দশমিক ২৫ কাঠার ওপর ভবনটির আবাসিক ফ্লোরে রয়েছে চারটি করে ফ্ল্যাট। প্রতিটির আয়তন ১৫৬০ থেকে ১৬০০ বর্গফুট। ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি চলছে ধুমধামে। বিস্ময়কর হলো, ভবনটির নির্মাণবিষয়ক বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশার অনুমোদন নেয়নি। নেই অন্য কোনো সংস্থার অনুমতিও।এ ব্যাপারে সারা বিল্ডার্সের প্রকল্প প্রকৌশলী সোলাইমান হোসেন জানিয়েছেন, বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে যত ভবন হয়েছে, কোনোটির নকশা নেই। এখানে রাজউক তদারকি করে না। এ সুযোগ নিয়ে তারাও ভবন বানাচ্ছে। তবে রাজউক চাইলে কাগজপত্র দেখিয়ে নকশার অনুমতি নেওয়া হবে।শুধু ফিউচার টাউনে নয়, গাবতলী-হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশের বছিলা ও আশপাশের এলাকায় নামসর্বস্ব অনেক আবাসন কোম্পানি সারি সারি বহুতল ভবন করছে।

সিটি করপোরেশনের আওতাধীন, মূল শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ এবং দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এখানকার প্লট-ফ্ল্যাট কেনার হিড়িক পড়েছে। অনেকে একা, আবার কয়েকজন মিলে প্লট কিনে ভবন বানিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করছেন। অনেক ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান প্লট কিনে ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।জলাধার ভরাট করে অবৈধ ভবন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের বাইরে অবৈধ নগরায়ণ শুরু হয় নব্বই দশকে, ঢাকা উদ্যান দিয়ে। তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে (ডিএমডিপি) ওই এলাকা জলাধার হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এমনকি ২০১৩ সালে প্রণীত ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানেও (ড্যাপ) ওই এলাকার শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি। কিন্তু পর্যায়ক্রমে আশপাশের জলাশয়, বাগান ও খাল ভরাট করে শুরু হয় ভবন নির্মাণ। বিভিন্ন হাউজিং নাম দিয়ে ইচ্ছামতো রাস্তা-প্লট বানিয়ে কেনাবেচা করছে। যার জায়গা রাস্তার মধ্যে পড়ে, তাকে পাশেই প্লট দেওয়া হয়। ফলে খুব দ্রুত নগরায়ণ ঘটে বিস্তীর্ণ ওই এলাকায়।

 

বর্তমান ড্যাপ প্রণয়নের সময়ও পরিবেশবাদীরা এলাকাটি আরবান এরিয়া ঘোষণা করতে বাধা দেয়। এর পরও ২০২০ সাল থেকে ১৫ বছর মেয়াদি ড্যাপে এলাকাটি আরবান এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে রাজউক। এর পরই ভবন নির্মাণের মহোৎসব শুরু হয়। এ কাজে একতা হাউজিং, নবীনগর হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, সূচনা হাউজিং, দয়াল হাউজিং, বছিলা সিটি ডেভেলপার, গ্রিন হাউজিং, গ্রিনভিউ হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, রাজধানী উদ্যান, স্বপ্নধারা হাউজিং, গার্ডেন হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, চন্দ্রিমা হাউজিং, বছিলা হাউজিংসহ ডজনখানেক আবাসন কোম্পানি গড়ে উঠেছে। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে জলাশয়, কৃষিজমি, ডোবা, বাগান ও নালা ভরাট করে চলছে আবাসন প্রকল্প। যারা এখানে জমির মালিক ছিলেন বা হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই ভরাট এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। যদিও তারা বিষয়টি স্বীকার করতে নারাজ।স্বপ্নধারা হাউজিংয়ের প্লটে বাড়ি করা মোরশেদ আলম জানিয়েছেন, কেনার সময় তাঁর জমি সমতল ছিল, কোনো জলাশয় ছিল না।