পিরোজপুরের জিয়ানগরে (ইন্দুরকানী) পাওনা টাকা চাওয়ায় এক প্রধান শিক্ষককে টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেন মৃধা নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ হামলায় ওই শিক্ষকের তিনটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মুখে প্রচণ্ড আঘাত পান। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের সাউদখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষকের নাম ইব্রাহিম শিকদার। তিনি স্থানীয় ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। হামলার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম শিকদার জানান, ব্যবসা করার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন সাউদখালী গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন মৃধা। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে ঘুরাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে রাতে মনির তাঁকে নিজের বাড়ির সামনে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই হাতে থাকা স্টিলের ভারী টর্চলাইট দিয়ে তাঁর মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এতে তাঁর তিনটি দাঁত ভেঙে রক্তাক্ত জখম হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মনির হোসেন মৃধা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম শিকদারের সঙ্গে আমার কোনো দেনাপাওনার সম্পর্ক নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি আমাকে আক্রমণ করতে এসেছিলেন। তখন আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ হোসেন জানান, ‘প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। উভয় পক্ষকে ডেকে তাদের কথা শুনে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জিয়ানগর থানার ওসি মো. মহব্বত খান জানান, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার খবর পেয়েছি। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপার নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন বাদী হয়ে এদিন সন্ধ্যায় শৈলকুপা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এতে প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পরিচ্ছন্নতা কর্মী) ফরিদুল ইসলামের খোঁজ করেন। তাঁকে না পেয়ে কয়েকবার মোবাইল ফোন নম্বরে কল দেন। এতেও ফরিদুলের সাড়া মেলেনি। পরে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। ফরিদুলের কাছে দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ফরিদুল ইসলামের দাবি, প্রধান শিক্ষক প্রথমে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর ঠেলাঠেলির মধ্যে হয়তো তাঁর গায়ে হাত লাগতে পারে।
বিষয়টি দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষককে অভিযোগ দিতে বলেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করবেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্যার ভাষ্য, তারা একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।