হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওমান, কাতার, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে। তেহরানের অভিযোগ, এসব ঘাঁটি ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।
জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো চালকবিহীন কামিকাজে ড্রোন বোট ব্যবহার করে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি বন্দর আব্বাসে হামলা চালানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাবে গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য জলপথটি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার মধ্যে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে অস্থিরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ