নিউ ইয়র্কে রেস্তোরাঁয় গুলিতে বাংলাদেশি নিহতদেশের ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আভাস৩১ দফা, ইশতেহার, সংস্কার—কোনো ছকে নেই মন্ত্রিসভাসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ঢাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা, তবে কমছে না গরম
No icon

রাজউকের বিশেষ বিবেচনার ২ শতাধিক প্লট বাতিল হচ্ছে

বিগত সরকারের আমলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যারা প্লট নিয়েছেন, তাদের প্লট বাতিল করার পথে সরকার। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজউকের বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বিধি মেনে দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির খতিয়ে দেখার কথা, কোন প্লট বিধি মোতাবেক বরাদ্দ হয়েছে আর কোন প্লট বিধিবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে বিধি বহির্ভূতভাবে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ এই কমিটি। এরই মধ্যে কমিটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের লিখিত সুপারিশ জমা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আইনি মতামত নিতে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছে। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে সেভাবে বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই কমিটি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯৪৪টি, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের ২৬০টি, উত্তরা আদর্শ শহর প্রকল্পের ২২১টি মোট ১ হাজার ৪২৬টি প্লটের তালিকা করেছে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করে দুই শতাধিক প্লট বাতিলের সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে বাতিল হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয় বা রাজউক এর দায় নিতে চায় না। তারা আদালতের ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী।কমিটির একজন সদস্য ধারণা দিয়েছেন, বিধির মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলো নিয়ে আপত্তি নেই; এমনকি কোটাপদ্ধতিতে দেওয়া প্লটগুলো নিয়েও আপত্তি নেই। তবে যারা রাষ্ট্র ও সমাজে বিশেষ অবদানের ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্লট নিয়েছেন, তাদের প্লটগুলো বাদ যাবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্লট নিলেও দেখানো হয়েছে বিশেষ অবদানের প্লট। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়িচালকও পেয়েছেন বিশেষ অবদানের প্লট। অনেকে প্লট পাওয়ার পর বিক্রি করে চলে গেছেন। বিতর্কিত এসব প্লট কিনে বিপদে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

আওয়ামী লীগ সরকার ১৩(এ) এর ১(এ), ১(বি) এবং ১(সি) ধারায় প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী ১(এ) ক্যাটাগরিতে রয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা। ১(বি)তে রয়েছেন সংসদ সদস্যরা। ১(সি)তে রয়েছেন সমাজকর্মী, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি। এই তিন ক্যাটাগরিতে প্লট দেওয়ার বিধান রাজউকের প্লট বরাদ্দ নীতিমালার মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া কোটাপদ্ধতি ছিল সেখানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিল্পী, সাহিত্যিক, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের জন্য কোটা সংরক্ষিত ছিল।অনেকে কোটায় অংশ না নিয়ে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে প্লট বাগিয়ে নিয়েছেন। আর সেই কাজে সহযোগিতা করেছেন রাজউকের একশ্রেণির সুবিধাভোগীরা। দেখা যায়, প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনেকটা ভাগ-বাঁটোয়ারার ঘটনা ঘটেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তলব করা হয় রাজউকের বরাদ্দকৃত সরকারি প্লটের তালিকা। বিধির অপব্যবহার হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১৩(ক) ধারা তুলে দেওয়া হয়। শুরু হয় প্লট বরাদ্দের অনিয়ম খোঁজা।আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজউক থেকে পাওয়া প্লটের তথ্য খুঁজতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মহ. মনিরুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলমগীর হাসিন এবং রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ)। এই কমিটি দুই শতাধিক প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, যতদূর জানি কমিটি তাদের সুপারিশ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। মন্ত্রণালয় আদালতের নির্দেশনার জন্য পাঠিয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজউক কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, রাজউক নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।

কমিটির একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদস্য   জানান, কমিটির চেয়ারম্যান আরও সময় চান। কিন্তু আমি মনে করি আর সময় নেওয়ার দরকার নেই। আমাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করুক সরকার।তিনি বলেন, বিশেষ বরাদ্দের নামে কোনো এক উপজেলার ছাত্রলীগের নেতা, যুবলীগের নেতা, আওয়ামী লীগ সদস্য বা তাদের নিজেদের লোকদের নামে প্লট বরাদ্দ দেবে এটা তো ন্যায্য হতে পারে না। আমরা বলেছি যে যে ক্যাটাগরি ছিল, সে যদি সেই ক্যাটাগরিতে প্লট পেয়ে থাকে তাতের দোষের কিছু নেই।যারা প্লট পেয়ে বিক্রি করেছেন সে বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে জানতে চাইলে এই সদস্য বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে যদি কেউ প্লট কিনে প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? আমরা সুপারিশ করেছি; সরকার বিবেচনা করবে।