গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ গাজাবাসীর ওপর হামলা চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী। পরিস্থিতি এখন এমন, মৃতদের দাফনের জায়গা খুঁজে পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন গাজাবাসী। অনেক কবরস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে।গত শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মৃতদের অনেককে বাগানে দাফন করা হয়েছে। অনেককে আবার তাঁবুর ভেতরে, শরণার্থী শিবিরে, স্কুল ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া এখনও প্রচুর ফিলিস্তিনি নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। তাদেরও মৃত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার ধ্বংসস্তূপে স্বজনের মরদেহ খুঁজে পেতে শুরু করেছেন ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে। সব মিলিয়ে এত মরদেহ ঠাঁই দেওয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না গাজায়।
গাজার ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়াবলিসম্পর্কিত মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০টিরও বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী যেসব এলাকায় এখনও রয়ে গেছে, সেখানে কবরস্থানগুলোতে তারা কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। এতে করে কবরস্থানের সংখ্যা আরও কমে গেছে।বহু ফিলিস্তিনি বর্তমানে বাস্তুচ্যুত থাকায় আগে যেসব জায়গাকে দাফনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেগুলোও ফাঁকা থাকছে না। এসবের বাইরেও দাফনের সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। একেকটি দাফনের জন্য খরচ হচ্ছে ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার।
আবারও ইসরায়েলি হামলা
এদিকে, এ রকম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেও চলছে ইসরায়েলি হামলা। মধ্য গাজার মাঘাঝি শরণার্থী শিবিরে গতকাল রোববার ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এদিন সকালে সালাহ আল-দিন সড়কের কাছে হামলাটি হয়।বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে প্রথম উঠে আসে বিষয়টি। পাশাপাশি আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার শহর দেইর এল-বালাহতে আল-হাসানাত পরিবারকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার এক দিন পর এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। আগের দিনের হামলায়ও এক ব্যক্তি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত এক হাজার ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
পশ্চিম তীরে শিশুসহ গ্রেপ্তার ১৩
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত রোববার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক শিশুসহ ১৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো কাণ্ডের মাঝেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আলজাজিরার খবর বলছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গাছ কেটে ফেলা, শস্য নষ্ট করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এমনকি কৃষিকাজের জন্য বসানো সেচের পাইপও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায়। এসবের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিবৃত্ত না করে পশ্চিম তীরের বেথলেহাম, কালকিলা, রামাল্লার মতো জায়গাগুলো থেকে ফিলিস্তিনিদের আটক করেছে।