মাত্র সাত বছর আগে শূন্য থেকে শুরু করা এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ গত মে মাসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৪৪ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকার লেনদেন করেছে। ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গ্রাহক লেনদেন বাড়ছে। একজন থেকে আরেকজনকে টাকা পাঠানো, যে কোনো কেনাকাটার পেমেন্ট বা সরকারি বিল দেওয়া সব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অন্যতম পছন্দের নাম নগদ ।নগদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিজিটালি লেনদেন নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতি মাসে কয়েক কোটি গ্রাহকের মূল্যবান সময় বা অর্থ সাশ্রয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। সাফল্যের কারণে বিশ্বখ্যাত কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এখন নগদ-এর সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে। সম্প্রতি মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন চিঠি দিয়ে সরকারকে এ বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। তারা জানান, মূলত উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগদ গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি যখন যাত্রা করে, তখন দেশে প্রথমবারের মতো গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতির (ই-কেওয়াইসি) প্রচলন ঘটিয়ে সাড়া ফেলে দেয়। ঘরে বসে আর্থিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারা ছিল তখন স্বপ্নের মতো। আর কভিডকালে এই প্রযুক্তিই হয়ে উঠেছিল ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের প্রধান অবলম্বন।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কল্যাণে অনেক অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ পড়ায় সেবা নেওয়ার খরচ নেমে আসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এভাবেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হয়েছে নগদ। বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমেও যা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের জরিপে ২০২৪ সালে দেশের সব কোম্পানি মিলে গ্রাহক পছন্দের দ্বিতীয় স্থানে ছিল নগদ।বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নগদে নিযুক্ত প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, শুধু নগদ বলে নয়, যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের আস্থা অর্জন বড় একটি বিষয়। নগদ এখানে সাফল্য দেখিয়েছে। নগদের ওপর গ্রাহক আস্থার কারণে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নগদে রাখছেন। যে কোনো সময় নগদে গ্রাহকদের মোট স্থিতি চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা থাকে।অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধার ওপর ভর করেই সরকারের ভাতা এবং উপবৃত্তি বিতরণের জন্য নগদই হয়ে ওঠে অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সরকারের এই সেবা এখন সব কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত। তারপরেও তিন কোটির বেশি গ্রাহক সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য নগদকেই পছন্দ করেছেন। নগদের মাধ্যমে এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৪৩ হাজার কোটি টাকার সরকারি সহায়তা।
নগদ বলছে, প্রচলিত বাজার ব্যবস্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তাদের মতো ভূমিকা হয়তো আর কেউ রাখতে পারেনি। সবচেয়ে কম খরচে মোবাইলের লেনদেন হওয়ায় প্রতিযোগিতায় যে কোনো এমএফএসের চেয়ে এমনিতেই এগিয়ে থাকে নগদ। হোক তা সাধারণ ক্যাশ-আউট, অন্য লেনদেন অথবা বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স। তিন লাখের বেশি এজেন্ট আর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক হওয়ায় যখন ইচ্ছা হাতের কাছে ক্যাশ-ইন বা ক্যাশ আউটের সুবিধা মেলে। নগদে নিযুক্ত প্রশাসক আরও বলেন, দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক হলে নগদের অন্যতম শক্তির জায়গা। আর্থিক সেবা যদি হাতের কাছে না থাকে তাহলে গ্রাহক স্বস্তি পায় না। নতুন আর কোনো প্রতিষ্ঠান এসে এমন নেটওয়ার্ক দাঁড় করাতে পারবে কিনা, সে বিষয়েও সংশয় রয়েছে তার।ডিজিটাল লেনদেনে দেশে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে যে কোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানো বা যে দেশের ১০ লাখ বাংলা কিউআর কোডে পেমেন্ট করার সুবিধা চালু করা।
এর মাধ্যমে নগদ দেশের কোটি কোটি মানুষকে ডিজিটাল পেমেন্টে আরও বেশি স্বচ্ছন্দ করে তুলবে বলে মনে করেন নগদ প্রশাসক। তিনি বলেন, দেশে ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করার পথে এটি হবে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। গ্রাহকসেবার পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করা গেলে লেনদেনের স্বচ্ছতা যেমন বাড়ে, অর্থনীতিতেও বাড়তি গতি সঞ্চার হয়। ফলে কর এবং অন্যান্য মাশুল থেকে সরকারের আয়ও বাড়ে। নগদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। সরকারকে এ পর্যন্ত ১১শ কোটি টাকার রাজস্ব দেওয়ার পাশাপাশি ডাক বিভাগকে ২৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা আয়ের ভাগ দিয়েছে নগদ।উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কারণে নগদ জিতেছে বিশ্বখ্যাত উইসিস গ্লোবাল (ডব্লিউআইটিএসএ) এক্সলেন্স অ্যাওয়ার্ড। এর বাইরে আধুনিকতম সেবা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অভাবনীয় অবদান রাখার জন্য মেটলাইফ ফাউন্ডেশন, বিশ্বখ্যাত আইএফসি, মাস্টারকার্ডও নগদকে পুরস্কৃত করেছে।