সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আওয়ামীপন্থি ৮৪ ৮৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশইসরায়েলে আটক হলেন দুই ব্রিটিশ এমপিটানা ৯ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিসআজ থেকে ব্যাংক লেনদেন ১০-৪টা
No icon

সরকারের ব্যাংকঋণ আবার বাড়ছে

সরকারের ব্যাংকঋণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ এক মাস ১০ দিনে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। সব মিলে চলতি অর্থবছরের সাড়ে আট মাসেই (১ জুলাই-১০ মার্চ) বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণ ৮৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ নেয়নি সরকার। উল্টো আগের নেওয়া ঋণের প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার মতো পরিশোধ করেছে। ফলে আলোচ্য সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা।সরকারের ব্যাংকঋণ হঠাৎ বৃদ্ধির পেছনের মূল কারণগুলো হচ্ছে রাজস্ব আহরণে ধীরগতি, বৈদেশিক উৎস থেকে কাক্সিক্ষত ঋণ-সহায়তা না আসা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির চেয়ে ভাঙানোর প্রবণতা বেশি হওয়া।জানা যায়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে যে ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার সবটাই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রথমার্ধ পর্যন্ত সরকারের ঋণের চাহিদা কম থাকায় এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে সরকার। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার। সেই লক্ষ্যমাত্রা ২৭ শতাংশ কমিয়ে ৯৯ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে এখন চাহিদা বাড়তে থাকায় সরকারের ব্যাংকঋণ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আটকে রাখা অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের জুন শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। গত ১০ মার্চ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস ১০ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে যার পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। আর গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম চার মাসে ছিল ৫৬ হাজার কোটি টাকা।প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ করেনি সরকার। গত জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮ কোটি। গত ১০ মার্চ শেষে স্থিতি কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই আট মাস ১০ দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকার উল্টো ঋণ পরিশোধ করেছে ৪৭ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণকে টাকা ছাপানো হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে আলোচ্য সাত মাসে ছাপানো টাকার ঋণ পরিশোধ বেড়েছে।প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গত ১০ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে সরকারের নিট ঋণস্থিতি ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাস ১০ দিনে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম সাত মাসে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।এদিকে গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। সশোধিত বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে করা হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত এর বিপরীতে সরকার নিট ঋণ নেয় ৯৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।