
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে টানা ৯ দিন ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে ঈদের দিন ছাড়া প্রতিদিন খোলা থাকবে দেশের সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশন। টানা ৯ দিন কাস্টমস ও বন্দর বন্ধ থাকলেও (ঈদের দিন ব্যতিত) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান থাকবে চট্টগ্রাম বন্দরে।তবে টানা ছুটি থাকলেও লেনদেন ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, লম্বা ছুটিতে মালিক-শ্রমিক মিলে আগেই পরিকল্পনা সাজানো হয় যেন সরবরাহ ও উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাধারণত ঈদের ছুটিতে ৪-৫ দিন সবকিছুই বন্ধ থাকে, তেমন কোনো কাজ হয় না। লম্বা ছুটিতে ডিজিটাল লেনদেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা সচল থাকলে অর্থনীতিতে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা না।ঈদের ছুটিতে টানা ৯ দিন (২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল) ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে শিল্পঘন এলাকায় ২৮ ও ২৯ মার্চ কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে পোশাকশ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার জন্য। এ সময়ে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপ-শাখা ও বুথ সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হবে।
২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত (ঈদের দিন ছাড়া) সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। গ্রাহকের সুবিধায় ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অনলাইন-পেমেন্ট গেটওয়ে, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), এমএফএস সার্বক্ষণিক সচল থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।তবে দীর্ঘসময়ে ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে এ বিষয়ে কথা হয় নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের সঙ্গে।তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের কারখানায় শুক্র-শনিবার যে কয়দিন খোলা থাকে ব্যাংকগুলো সেভাবে সীমিত পরিসরে লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া লম্বা ছুটির ক্ষেত্রে প্রতি বছরই শ্রমিক-মালিক মিলে একটা পরিকল্পনা সাজানো হয়। হয়তো কিছুটা কাজের হ্যাম্পার হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা পরে ওভারটাইম করে এটা পুষিয়ে নিই।
তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভোগান্তি হয় না, কারণ বন্ধের যে কয়দিন কারখানা খোলা থাকে, শিল্প এলাকায় সে কয়দিন ব্যাংকের শাখাও খোলা থাকে।ফজলে শামীম এহসান বলেন, প্রতি বছরই ছুটি হয়, আমরা সেটা অ্যাডজাস্ট (সমন্বয়) করে নিতে পারি। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ করি। এক্ষেত্রেও কোনো ধরনের সমস্যা হয় না, বিশেষ করে মাল শিপমেন্টের ক্ষেত্রেও। কোনো কারখানায় ৫ দিন, কোনো কারখানায় ৭ দিন ছুটি দিয়ে থাকে, পরে ওভার ডিউটি করে সেটা পূরণ করে নেন তারা। যে যার মতো প্রোডাকশন করে ছুটি দেয়, একটু তো কাজের হ্যাম্পার হবেই, সেটা মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়। তারপরও মালিক শ্রমিক সবাই মিলে একটা সেক্রিফাইস করতেই হয়, ঈদের আনন্দ আমরা সবাই ভাগাভাগি করি।তিনি বলেন, এ ধরনের লম্বা ছুটি পেলে আমরা আগে থেকে প্ল্যান করে থাকি। অনেকে হয়তো সেই মাসে অর্ডার কম নেই, আবার অর্ডার থাকলেও পরে ওভারটাইম করে সেটা কাভার করা হয়। এখানে শ্রমিক ওভারটাইমের বাড়তি টাকা পান, আবার কারখানা মালিকেরও শিপমেন্টে কোনো সমস্যা হয় না। এ কারণে লেনদেন কিংবা বাণিজ্যে কোনো ধরনের প্রভাব পড়ে না।