→ সোমবার বাংলাদেশে আসছেন ডাচেস অব এডিনবরা সোফি→ কিডনি ডায়ালাইসিসে বাড়তি খরচের আশঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ৫০০ রোগী→ খাগড়াছড়ি ও ধামরাইয়ে তিন বাসে আগুন→ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা→ নিউজিল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু
No icon

কিডনি ডায়ালাইসিসে বাড়তি খরচের আশঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ৫০০ রোগী

সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণে ৬০টি হেমোডায়ালাইসিস যন্ত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব যন্ত্র পরিচালনায় নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারকের রাসায়নিক ও রিয়েজেন্টের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দরপত্রে উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি অনলাইন হেমোডায়াফিলট্রেশন (এইচডিএফ) সুবিধা না রাখায় রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।এদিকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (নিকডু) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত দুটি ডায়ালাইসিস সেন্টারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৯ নভেম্বর। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া সেন্টার দুটি বন্ধ হয়ে গেলে ৫০০ রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৩০ জন ও চট্টগ্রামে ২৭০ জন রয়েছেন।গতকাল শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগ তুলে ধরে সেন্টার দুটি চালু রাখার দাবি জানান রোগী ও তাদের স্বজনরা। ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো (সিএমএসডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিআর-২৬২২ প্যাকেজের আওতায় ৬০টি হেমোডায়ালাইসিস যন্ত্র কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত সোমবার দরপত্র খোলা হয়। এতে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সর্বনিম্ন প্রায় ১০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করেছে তামাম করপোরেশন। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা বেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রস্তাবিত মূল্য আট লাখ ৫৮ হাজার ডলার। দুই প্রতিষ্ঠানের দরপার্থক্য মাত্র ৩০০ ডলার।দরপত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০টি যন্ত্রের মধ্যে ৫৫টির ক্ষেত্রে ১০ ইঞ্চি মনিটরের প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে যন্ত্রগুলোতে অনলাইন এইচডিএফ সুবিধাও চাওয়া হয়নি। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রচলিত হেমোডায়ালাইসিসের তুলনায় অনলাইন এইচডিএফ পদ্ধতিতে রক্ত থেকে ছোট ও মাঝারি আণবিক আকারের বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা যায়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কিছু জটিলতা কমাতে এবং চিকিৎসার ফল উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। ফলে নতুন যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে এই সুবিধা রাখা হলো না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যন্ত্র কেনার পাশাপাশি এর রাসায়নিক জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক রোগীর ডায়ালাইসিস সেশনের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যন্ত্র জীবাণুমুক্ত করতে হয়। ফ্রেসেনিয়াসের তৈরি ৫০০৮এস মডেলের ক্ষেত্রে এ কাজে কোন ধরনের কেমিক্যাল বা রিয়েজেন্ট ব্যবহার করতে হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, যন্ত্র পরিচালনায় নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারকের রাসায়নিক বা রিয়েজেন্টের ওপর নির্ভরতা তৈরি হলে বিকল্প সরবরাহকারীর কাছ থেকে এসব উপকরণ কেনার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। দীর্ঘ মেয়াদে কেমিক্যাল ও রিয়েজেন্টের দাম বাড়লে প্রতি সেশনে ডায়ালাইসিসের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে প্রতি সেশনে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। দরপত্রে রাসায়নিক জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা ক্লোজড, নাকি ওপেন সিস্টেম হবে, কী ধরনের কেমিক্যাল প্রয়োজন, প্রতি সেশনে কতটুকু ব্যবহার হবে এবং এর আনুমানিক ব্যয় কত এসব বিষয়ে স্পষ্ট শর্ত না থাকায় প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে বিকল্প প্রস্তুতকারকের কেমিক্যাল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে কিনা, সেটিও পরিষ্কার নয়।

খরচের চাপে রোগীরা

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কিডনি রোগীর স্বজন মো. লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে রোগীদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। স্বল্প খরচে চিকিৎসার যে ধারণা দেওয়া হয়, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে মেলে না।আয়োজকরা সরকারি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থার পাঁচটি বড় সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা নিতে শুরুতেই ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়। এর বিনিময়ে মাত্র ছয় মাস সেবা পাওয়া যায়। এ সময়ের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হলে অব্যবহৃত টাকার অংশ ফেরত দেওয়া হয় না।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে নিকডুতে ১৩০ জন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭০ জন রোগী পিপিপির আওতায় পরিচালিত সেন্টার দুটিতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন। তাদের বড় অংশ দরিদ্র ও অসচ্ছল। সরকারি হাসপাতালের প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় এসব সেন্টারে কম খরচে ও নিরাপদে সেবা পাওয়া যায়।সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফুর রহমান রিপন জানান, আট বছর ধরে পরিবারের একজন সদস্যের ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করানোর ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে গেলেও নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়।