→ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা→ নিউজিল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু→ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো নারীদের ৩৮% অন্তঃসত্ত্বা→ বিশ্বে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ জলবায়ু ঝুঁকিতে→ টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথবাহিনীর অভিযান
No icon

বিশ্বে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ জলবায়ু ঝুঁকিতে

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব বাড়ছে। খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ। তাদের বড় একটি অংশ বসবাস করছেন বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যেসব জনগোষ্ঠীর, তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না প্রয়োজনীয় অর্থায়ন। এমন পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার তুরস্কের আন্তালিয়ায় শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন কপ৩১। তবে জলবায়ু অর্থায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সম্মেলন থেকে বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা কম।জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বিশ্বের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বসবাস করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে গেলেও অনেকের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ থাকছে না। সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশের মতো পৌঁছায় সংঘাত ও সংকটে থাকা দেশগুলোতে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ফিরেছেন এমন সব দেশে, যেগুলো নিজেরাই গুরুতর জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে তাদের আবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এ অবস্থায় কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সরকার ও জলবায়ু অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অভিযোজন খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে কপ৩১ সম্মেলনে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিযোজন এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানো, ঋণের বোঝা না বাড়ানো এবং জলবায়ু তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য দেবেন। সম্মেলনস্থলে ১০০ বর্গমিটারের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে বাংলাদেশ সরকার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও উন্নয়নকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলছে।মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দাবি থাকবে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। নতুন অর্থায়ন লক্ষ্যের আলোকে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রধানত অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে দেশটি। পাশাপাশি লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত এবং সহজে অনুদান পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হবে। বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানোসহ অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা কঠিন এমন ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায়ও নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ।