মালয়েশিয়া থেকে এলো ৩৪ হাজার টন ডিজেলঢাকাসহ ৯ জেলার জন্য দুঃসংবাদ, সিলেটে ঝড়ের শঙ্কাভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গুহরমুজ খুলতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ চায় ৪০ দেশআগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ
No icon

আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ

প্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতের সিদ্ধান্তে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ। অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আবার চলে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বিলুপ্ত হবে গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। ফলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই অধ্যাদেশগুলো আপাতত আইনে পরিণত হচ্ছে না। আইনজীবীরা বলছেন, বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে প্রতিবেদন দেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় বিষয়ক দুটি অধ্যাদেশ কার্যত বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের নামে স্থগিতের সুপারিশ করায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অধ্যাদেশ তিনটি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবি এই আহ্বান জানায়।বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন হুমকির মুখে ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, সংবিধানে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা বলা আছে। কিন্তু এত বছরেও তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করায় কিছুটা হলেও অগ্রগতি হয়েছিল। কেন তা গ্রহণ করা হচ্ছে না তা পরিষ্কার নয়। দেরিতে হলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো যেন আইনে পরিণত করা হয়, এমন প্রত্যাশা তাদের।গত বছর ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরের মাসে সচিবালয়ের উদ্বোধনকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছিলেন, আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং যত অংশীজন আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।

পৃথক এ সচিবালয়ের জন্য একজন সচিব, ১৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এবং ১৯ জন স্টাফ ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, এই কর্মকর্তাদের এখন কী হবে? সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। তবে তিনি তা সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে করবেন। অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির পক্ষে অধস্তন আদালতের বিচারকদের ও বিচারিক সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে দেওয়া হয়, যা আগে আইন মন্ত্রণালয় করত। অধ্যাদেশ রহিত হলে আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে এই ক্ষমতা ফিরবে।অধ্যাদেশে সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রধান বিচারপতিকে দেওয়ায় হয়েছে। অধ্যাদেশটি রহিতে সংসদের বিশেষ কমিটিকে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হবেন। সরকারের সঙ্গে কাজের সমন্বয় হবে না। একক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ বিচারকদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।