ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সজকসুর ৮ কেন্দ্রের ফল প্রকাশ, ভিপি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইশীতে কাবু চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা নামল ৬ ডিগ্রিতেমাহাথির মোহাম্মদকে নেওয়া হয়েছে হার্ট ইনস্টিটিউটেভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজ
No icon

শীতে কাঁপছে সারাদেশ, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

সারাদেশ তীব্র শীতের কবলে। ১২ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন বাদে গতকাল কিছুটা সূর্যকিরণ মিললেও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, লালপুর, শেরপুর, কুড়িগ্রামসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক অস্বাভাবিক নিম্নপর্যায়ে পৌঁছেছে।গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।ঈশ্বরদীতে সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাবনার অন্যান্য এলাকায় গত সপ্তাহ ধরে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একই সময়ে ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং লালপুরে ৮.২ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। রাঙামাটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।

চুয়াডাঙ্গা ও শেরপুরেও শীতের প্রভাব অত্যন্ত তীব্র।

শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, কৃষক, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, বিমান ও নৌ চলাচলেও সাময়িক ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগী যেমন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, শেরপুর ও রাঙামাটির স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, হাসপাতালের আউটডোরে শীতজনিত রোগী প্রতিদিন শতাধিক। শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় মানুষ ভুক্তভোগী। অনেক এলাকায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় এটি সীমিত।শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও আশপাশের গ্রামীণ অঞ্চলে তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বোরো আবাদ রক্ষা করতে খড়কুটোয় আগুন জ্বালানো এবং পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসজুড়েই শীতের প্রকোপ থাকতে পারে। আগামী কয়েক দিনও তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা আরও নিম্নমুখী হতে পারে।সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি