বিশ্বকাপের নকআউট মানেই ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। সেই মঞ্চেই এবার মুখোমুখি ফুটবলের দুই ভিন্ন সংস্কৃতি ট্যাঙ্গোর মায়াজাল আর ফারাওদের অদম্য লড়াই। এক পাশে লিওনেল মেসির জাদুকরী ছোঁয়া, অন্য পাশে মোহাম্মদ সালাহর গতির ঝড়। শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে কে লিখবে বিজয়ের নতুন মহাকাব্য?
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে এবার মুখোমুখি দুই ভিন্ন দর্শনের ফুটবল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যাদের লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখার মিশন আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর মিসর, যারা নিজেদের দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও লড়াকু মানসিকতা দিয়ে ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে। তাই কাগজে-কলমে শক্তির পার্থক্য থাকলেও এই লড়াইয়ে কোনো দলই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণে ধারালো ফুটবল খেললেও রক্ষণে কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে। কোচের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার অভিজ্ঞতা,
খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। পাশাপাশি হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব।অন্যদিকে মিসর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারের নাটকীয় জয় দিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। পুরো টুর্নামেন্টেই দলটি দেখিয়েছে দারুণ সংগঠিত রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী মিডফিল্ড এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সামর্থ্য। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর গতি, সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতা মিসরের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর্জেন্টিনার রক্ষণে সামান্য ফাঁক পেলেই সেটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে আফ্রিকান দলটি।কৌশলগত দিক থেকেও ম্যাচটি হতে পারে দারুণ আকর্ষণীয়। আর্জেন্টিনা স্বাভাবিকভাবেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়তে চাইবে। অন্যদিকে মিসর অপেক্ষা করবে সুযোগের; শক্ত রক্ষণ গড়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়াই হবে তাদের পরিকল্পনা। ফলে ম্যাচের ছন্দ নির্ভর করবে কে নিজেদের কৌশল বেশি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।
সব মিলিয়ে শেষ ষোলোর এই লড়াই শুধুই দুই দলের নয়, এটি দুই মহাতারকাÑ লিওনেল মেসি ও মোহাম্মদ সালাহরও দ্বৈরথ। একজন বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিয়ে আরও একবার ইতিহাস ছুঁতে চান, অন্যজন দেশের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে মরিয়া। তাই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে রুদ্ধশ্বাস, উত্তেজনাপূর্ণ এবং স্মরণীয় একটি নকআউট মহারণ, যেখানে নব্বই মিনিটের প্রতিটি মুহূর্তই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের গল্প।
দুই দলের এক্স ফ্যাক্টর : লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছেন অধিনায়ক। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ সাজানোর দায়িত্বও তার কাঁধে। বড় ম্যাচে মেসির অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি। এখন পর্যন্ত ৭ গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে রয়েছেন গোলদাতাদের মধ্যে।
মোহাম্মদ সালাহ (মিসর)
সালাহ পুরোপুরি ফিট থাকলে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তার গতি, ড্রিবলিং ও ফিনিশিং আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।