প্রশাসক বসছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানেবিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রীআগামীকাল এসএসসির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানবেনআজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীলঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৮ জেলায় বন্যার শঙ্কা
No icon

হরমুজ প্রণালী খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শর্ত ইরানের

হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোপুরি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক নতুন শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের যুদ্ধজনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়সহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। 

শনিবার (৮ আগস্ট) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে আর ইরানকে হুমকি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ কোনো শর্ত ছাড়াই মুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আগে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় বলে জানা গেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পরিচালনা নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত ট্রানজিট রুট নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বৃহত্তর সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা লঙ্ঘনের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে চলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইরান প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত রুট ও ব্যবস্থাপনার কথা বলছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কোনো ধরনের একতরফা নিয়ন্ত্রণ বা টোল আরোপের বিরোধিতা করছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইউএই কর্তৃপক্ষের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অ্যাডনক জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য বর্তমান সময়ই সবচেয়ে ভালো। তাঁর দাবি, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের জনগণের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি বজায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পথে এখনো বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক মতপার্থক্য রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা এগোলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।