প্রশাসক বসছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানেবিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রীআগামীকাল এসএসসির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানবেনআজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীলঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ৮ জেলায় বন্যার শঙ্কা
No icon

প্রশাসক বসছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে

পি কে হালদার ও এস আলমের দুর্নীতির কবলে পড়া দুর্বল পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।তাই সরকারি তদারকিতে আমানতকারীদের টাকা ফেরত, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত, ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তি বাতিল এবং প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রবিবারই পিপলস লিজিং ছাড়া বাকি চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পিপলস লিজিংয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পিপলস লিজিং ঘিরে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে।আদালতের আদেশ পাওয়া গেলে এই প্রতিষ্ঠানটিতেও প্রশাসক বসানো হবে।বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান  বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।আর পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা রয়েছে, সেটিও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।তিনি আরো বলেন, আমরা এরই মধ্যে সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমরা কার্যক্রম শুরু করতে চাই। এই টাকা দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক লিকুইডেশন বা অবসায়ন আইন অনুসরণ করা হবে।জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২০টির মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বেছে নেওয়া হয়, কারণ তাদের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাকি চারটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে সেগুলোকেও বন্ধ করা হবে।

ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এই সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে যাবে।বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।বর্তমানে বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ে রয়েছে তিন হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে তিন হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে পাঁচ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে এক হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা।জানা গেছে, পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা। সরকারি সহয়তা পাওয়ার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর জমা যতই থাকুক না কেন, আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের সরকার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। প্রথম পর্যয়ে দুই লাখ টাকা পাওয়ার পর সরকারি তহবিল প্রাপ্তির ভিত্তিতে এক অথবা দুই মাস পর পর ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় বা সম্পদ বিক্রি করে আনুপাতিক হারে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হবে।