বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় ঢাকাইরানের ৮০ স্থাপনায় মার্কিন হামলা, উত্তপ্ত হরমুজ৮০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ফের শুরু হচ্ছে ইরান যুদ্ধ?১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, সতর্কসংকেতহামের পরবর্তী জটিলতায় চোখের সমস্যায় রোগীরা
No icon

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের ২৪ সদস্য গ্রেপ্তার

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপজুড়ে ২৪ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যা, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি ও আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার অভিযোগে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।

‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ইউনাইটেড স্টেটস অ্যাটর্নি অফিস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে সক্রিয় তিনটি বড় অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের তদন্তের পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটররা ৩৭ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ২৪ জনের মধ্যে ১৩ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন ক্যালিফোর্নিয়া, একজন ইন্ডিয়ানা ও একজন জর্জিয়া থেকে গ্রেপ্তার হন। এছাড়া কানাডায় তিনজন এবং স্পেনে একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের আগেই সাতজন হেফাজতে ছিলেন, তবে এখনো ১০ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, নগদ অর্থ ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা প্রায় এক মেট্রিক টন কোকেন, এক কেজি হেরোইন, প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব চক্র সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক পাচারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

এই মামলায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে ভারতে কারাবন্দি রয়েছেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কারাগারে থেকেও অবৈধ মোবাইল ফোন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে তিনি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বাধীন চক্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরে খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগপত্রে লরেন্স বিষ্ণোই ও তার সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার নিজ্জার হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের ভূমিকার কোনো দাবি করেননি।

নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তেজনার মুখে পড়ে। কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তের কথা বলেছিলেন। তবে ভারত সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জার ভারতের পাঞ্জাবে পৃথক শিখ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারত সরকার তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডার পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধ দমনে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বার্তাও দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স