হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তবে দেশটিকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের কাছে এখন আগের তুলনায় অনেক উন্নতমানের প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। আমাদের কাছে সেরা সব সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বে আমাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটি ছড়িয়ে আছে। সেগুলো সরঞ্জামে পরিপূর্ণ। আমরা সেই সবকিছুই ব্যবহার করতে পারি এবং প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে দুটি উপায়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান হয় আলোচনার মাধ্যমে একটি সঠিক চুক্তিতে আসবে, অথবা পুনরায় সামরিক অভিযানের সম্মুখীন হবে। গত মাসেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে লিখেছিলেন যে, হামলা হলে একটি পুরো সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।ট্রাম্প এমন একসময়ে এই হুমকি দিলেন যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল -এ দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা করায় মার্কিন বাহিনী ইরানের সাতটি ছোট বোট (ফাস্ট বোট) ডুবিয়ে দিয়েছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি জানান যে, ইরানি আলোচকরা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি নমনীয় হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভাঙতে এবং জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখাতে সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট ফ্রিডম ।ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালিটি পার হতে সহায়তা করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলো দেখাচ্ছে যে, ওই জলপথে যাতায়াত এখনো অনেকাংশেই স্থগিত রয়েছে।মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ওই এলাকায় আটকে পড়া জাহাজগুলো ৮৭টি ভিন্ন দেশের, যারা এই সংঘাতের মাঝে মূলত নিরপরাধ দর্শক ।এক বিবৃতিতে কুপার বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় আমরা কয়েক ডজন জাহাজ এবং শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যাতে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত শুরু করতে উৎসাহিত হয়। সংকীর্ণ এই বাণিজ্য পথ দিয়ে জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দেওয়ার যে লক্ষ্য প্রেসিডেন্টের রয়েছে, আমরা সে অনুযায়ীই কাজ করছি।