টানা ৮০ ঘণ্টা গতি ধীর থাকতে পারে ইন্টারনেটেরঢাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়বে, জানাল অধিদপ্তরবিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদেযুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্পই পাকিস্তানকে চাপ দেনমধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ছয় বাংলাদেশি নিহত
No icon

বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর ইসলামাবাদের বৈঠকে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ১৫ দফা তুলে ধরবে। তবে আলোচনায় বসার আগে বিপত্তি বেঁধেছে ইরানের দেওয়া মিত্রদের সুরক্ষা -সংক্রান্ত শর্ত নিয়ে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির দাবিনামায় তেহরান বলেছিল, তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি শুরুর দিন থেকেই লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। তেল আবিব এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। আলি খামেনিকে হত্যার পর প্রতিশোধ নিতে গোষ্ঠীটি গত ২ মার্চ ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধে যোগ দেয়। তাই হিজবুল্লাহ বা লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে তেহরান। যা নিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। ইসলামাবাদের আলোচনায় এই দুজনের নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেল আবিবের হামলা অব্যাহত থাকলে শান্তি আলোচনায় বসা একেবারে অযৌক্তিক। অন্যদিকে, হাঙ্গেরিতে অবস্থানের সময় জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানিরা ভেবেছিল এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। দুপক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই ইসলামাবাদ বৈঠক থেকে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আর চীনের পক্ষ থেকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।লেবানন প্রসঙ্গ ছাড়াও হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি ইসলামাবাদ বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে যাচ্ছে। তেহরান চায় হরমুজে তাদের একক নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিক। তবে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে ।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব গতকালই দিয়েছেন ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসলামি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর যে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি কখনোই পূরণ হবে না।

আলোচকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

গত বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের দেওয়া বিবৃতিতে ১০ দফা প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দফা উল্লেখ করা হয়েছিল। তাতে ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা সরানো এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি আছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নামে গণমাধ্যমে আসা ১৫ দফা দাবিগুলোর মধ্যে আছে নাতাঞ্জ, ইস্পাহান এবং ফোর্দোতে অবস্থিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার, মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে হস্তান্তর। এ ছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং সংখ্যার সীমা নির্ধারণ, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী বা প্রক্সিদের সমর্থন বন্ধ, উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করা এবং হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খুলে দেওয়া।