হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি ইরান, তবে থাকছে শর্তঝড়-বৃষ্টির পরও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকাবিশ্বজুড়ে ধেয়ে আসছে ঘোর মহাবিপর্যয়গাজায় বিমান হামলা ও সংঘর্ষে নিহত ১০পাকিস্তানের হুমকির জবাব দেওয়ার সাহস মোদির নেই : মুখ্যমন্ত্রী মমতা
No icon

গাজায় বিমান হামলা ও সংঘর্ষে নিহত ১০

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং হামাস ও ইসরায়েল সমর্থিত স্থানীয় এক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার মধ্য গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে ঘটা এই সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।বিবিসির খবর অনুসারে, এই নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে গাজা থেকে মিসরে চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশী রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার মধ্য গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে ইসরায়েল সমর্থিত একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী চেকপোস্ট বসানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এর প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।সহিংসতার এক পর্যায়ে ইসরায়েলি ড্রোন মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সমর্থনে হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে তিনটি স্থানে বিমান হামলা চালায়। দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে কতজন সরাসরি লড়াইয়ে এবং কতজন বিমান হামলায় মারা গেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এদিকে, গাজার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপর। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, গাজায় তাদের একজন ঠিকাদারকর্মী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এক ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর রাফা সীমান্ত দিয়ে মিসরে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। আলোচনায় অচলাবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু। গত সপ্তাহে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে হামাস এই প্রস্তাবের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল যতক্ষণ শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করবে, ততক্ষণ অস্ত্রের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ ট্যাঙ্ক দিয়ে যা নিতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে তা নিতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হামাসকে সহজ বা কঠিন যে কোনো উপায়ে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে।আল-আকসা মসজিদে উত্তেজনা গাজার এই পরিস্থিতির মধ্যেই অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির গত সোমবার আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেন। একই সময়ে ইসরায়েলি পুলিশ একটি নতুন পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনায় মুসলিম ও ইহুদিদের জন্য সমান সংখ্যার (১৫০ জন) প্রবেশের কোটা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে আল-আকসা মসজিদকে ইহুদিকরণের একটি অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।