টানা পঞ্চমবার সাফের সভাপতি নির্বাচিত সালাউদ্দিনহামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যুআগস্টজুড়ে টানা বৃষ্টির আভাস, বন্যার ঝুঁকিতে একাধিক অঞ্চলগ্যাস সংকটে ভোগান্তি চরমেকক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু
No icon

গ্যাস সংকটে ভোগান্তি চরমে

ভোরের আলো ফোটার আগেই উনুনে চাল-ডালের হাঁড়ি চাপানোর তাড়া থাকে ঢাকা শহরের অধিকাংশ গৃহিণীর। কিন্তু এ শহরে লাখো পরিবারে এখন ভোগান্তির চিত্র। ভোরে উঠে চুলা ধরাতে গেলে দেখা যাচ্ছে গ্যাস নেই।গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর আবাসিক এলাকাজুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। দিনরাত পেরিয়ে গেলেও বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের দেখা মিলছে না। ফলে রান্নাঘরগুলো এখন পুরোপুরি ঠাণ্ডা। আর রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো মানুষ। হাউজিং এলাকা থেকে শুরু করে বস্তি অঞ্চল- সবখানেই হাহাকার : চুলা জ্বলে না, সংসার চলে না।মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার প্রায় প্রতিটি আবাসিক এলাকার চিত্র এখন একই সূত্রে গাঁথা। দিনের পর দিন বাসাবাড়ির চুলায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কোথাও কোথাও মাঝরাতে কিংবা একদম ভোরবেলায় সামান্য গ্যাস এলেও তা দিয়ে এক কাপ পানি ফোটানো বা চা বানানোও সম্ভব হচ্ছে না।

মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের গৃহিণী রেহানা পারভীন নিজের ক্ষোভ ও অবর্ণনীয় মানসিক কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে একটু নাস্তা তৈরি করে দেব, সেই উপায়টুকুও নেই। স্বামী সকালে না খেয়েই বিষণ্ন মুখে অফিসে বের হয়ে যান। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়, রাত নেমে আসে, কিন্তু চুলায় নিভু নিভু আগুনও আসে না। আগে যেখানে আধা ঘণ্টার মধ্যে রান্না শেষ করে অন্য কাজে মন দিতাম, এখন ৩-৪ ঘণ্টা চেষ্টা করেও ভাত ফোটানো যায় না।গ্যাস না থাকায় বিকল্প উপায় হিসেবে নগরবাসীকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকতে হচ্ছে ইন্ডাকশন (বৈদ্যুতিক) চুলা কিংবা চড়া দামের এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে। কিন্তু বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশচুম্বী দামের মাঝে এই আকস্মিক পরিবর্তন পরিবারগুলোর বাজেটকে একেবারে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। একটি নতুন ইলেকট্রিক চুলা বা সিলিন্ডার রিফিল করতে গিয়ে কয়েক হাজার টাকার বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে, যা সীমিত আয়ের মানুষের জন্য যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

অন্যদিকে যাদের এই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের বাধ্য হয়ে পাড়ার হোটেল থেকে চড়া দামে কেনা নিম্নমানের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মোহাম্মপুর এলাকার এক পোশাক কারখানার শ্রমিক আকরাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যা আয় করি, তার বড় একটা অংশ চলে যাচ্ছে হোটেল থেকে চারজনের খাবার কিনতে। গ্যাস না থাকার খেসারত দিতে গিয়ে মাসের মাঝামাঝি সময়েই হাত একদম খালি হয়ে গেছে। দোকানদাররাও এখন আর বাকিতে খাবার দিচ্ছে না। কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব, ভেবে পাচ্ছি না। সময়মতো ও পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে পরিবারের ছোট শিশু এবং বয়োবৃদ্ধ সদস্যরা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা। গভীর রাত জেগে যখন চুলায় সামান্য গ্যাস আসে, তখন গৃহিণীদের রান্নায় ব্যস্ত হতে হয়। এর ফলে ঘরের আলো জ্বলে থাকে, হাঁড়িপাতিলের শব্দে পরিবারের শিক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। গ্যাস সরবরাহের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামতের কাজ চলছে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে।