বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে বিলম্বনতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়ল সরকারযেসব অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, সতর্কসংকেতহামের টিকার দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্পেইন ঈদের পর: স্বাস্থ্যমন্ত্রীইরানের সঙ্গে ‘খুব দ্রুত’ যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প
No icon

লাইসেন্স ছাড়াই চলছে টিকিট বাণিজ্য

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর নিয়ন্ত্রণ-শূন্যতা। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর স্থানীয় জেনারেল সেলস এজেন্টদের (জিএসএ) লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও বহালতবিয়তে চলছে টিকিট বিক্রি, কার্গো বুকিং ও বৈদেশিক লেনদেন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া অন্তর্বর্তী অনুমতির সময়সীমা শেষ হলেও ১৬টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের স্থানীয় প্রতিনিধির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। এতে একদিকে যেমন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে। অন্যদিকে যাত্রী সুরক্ষা, আর্থিক জবাবদিহি ও সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনাও পড়ছে ঝুঁকির মুখে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন এ বাণিজ্য চলতে থাকলে এভিয়েশন খাতের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হবে।প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডজনেরও বেশি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের স্থানীয় জেনারেল সেলস এজেন্ট বা জিএসএর বৈধ অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স নবায়নে তাগাদা দিলেও রহস্যজনক কারণে গা করছে না বেবিচক। এতে একদিকে ভঙ্গ হচ্ছে আইন, অন্যদিকে বড় ধরনের রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়ছে সরকার।লাইসেন্সবিহীন এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনা বা কার্গো বুকিং করা যাত্রীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কারণে সেবা বিঘ্নিত হলে বা প্রতারণার শিকার হলে আইনি প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বৈধ লাইসেন্স না থাকলে অর্থ পাচারের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্টদের (জিএসএ) লাইসেন্স শুধু একটি প্রশাসনিক অনুমতি নয়, এটি যাত্রী সুরক্ষা, আর্থিক জবাবদিহি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কমপ্লায়েন্সের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি তারা টিকিট বিক্রি, কার্গো বুকিং বা বৈদেশিক লেনদেন চালিয়ে যায়, তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রক দুর্বলতার স্পষ্ট উদাহরণ।গোলাম মোস্তাফা টুকু নামের এক নিয়মিত যাত্রী আমাদের সময়কে বলেন, আমরা যখন বড় বড় এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনি, তখন দেখি সেগুলো নির্ধারিত এজেন্ট বা জিএসএর মাধ্যমে আসছে। কিন্তু এসব এজেন্টের লাইসেন্সই যদি না থাকে, তাহলে কোনো ফ্লাইট বাতিল বা টিকিটের রিফান্ড প্রয়োজন হলে এই লাইসেন্সহীন এজেন্টরা কি দায়িত্ব নেবে? কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল এসব অনিয়মের কথা আগেই প্রকাশ করা, যাতে আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীরা ঝুঁকিতে না পড়ে।জানা যায়, বেবিচক গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এক আদেশের মাধ্যমে দেশের ১৬টি জিএসএ প্রতিষ্ঠানের অনুমতির মেয়াদ তিন মাসের জন্য বাড়িয়েছিল। ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, নিয়মিত নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এটি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা এবং এর কার্যকারিতা সর্বোচ্চ ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। পরে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও লাইসেন্স নবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বেবিচক।

আদেশের শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নের কাগজপত্র জমা দিলেও অদৃশ্য কারণে বেবিচক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিমান চলাচল সচল রাখার স্বার্থে ব্যবসা পরিচালনা করছে একাধিক বিদেশি এয়ারলাইন্সের স্থানীয় জিএসএ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের জিএসএ ইউনাইটেড লিঙ্ক লিমিটেড, কাতার এয়ারওয়েজের জিএসএ ওরিক্স এভিয়েশন লিমিটেড এবং ইতিহাদ এয়ারওয়েজের এজেন্ট উইং এভিয়েশন লিমিটেড। এ ছাড়া ইন্ডিগো ও এয়ার অ্যারাবিয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে আরএএস হলিডেজ ও ওয়ান ওয়ার্ল্ড এভিয়েশন। ক্যাথে প্যাসিফিক ও মালিন্দো (বাটিক এয়ার) এয়ারলাইন্সের এজেন্ট হিসেবে রয়েছে গ্লোবাল এভিয়েশন এবং প্রাইম এভিয়েশন লিমিটেড।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের স্থানীয় জিএসএ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছি। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও ফি জমা দেওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন ঝুলে আছে। বিষয়টি নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম, যাত্রীসেবা ও টিকিটিং কার্যক্রম সচল রাখতে আমাদের নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত এ জটিলতার সমাধান না হলে ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।