মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেল ৫ প্রস্তাবশুক্রবার সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়বেদুপুরের মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কাহরমুজে ‘টিট ফর ট্যাট’ নৌযুদ্ধ: কে আগে নতি স্বীকার করবে?
No icon

বিদ্যুৎ সংকট আরও বাড়বে

জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় লোডশেডিং আরও বাড়বে বলে আভাস দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। উৎপাদন সক্ষম বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও প্রয়োজনীয় গ্যাস, কয়লা ও এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিভাগের সর্বশেষ হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা, ডলারের উচ্চমূল্য এবং আমদানিনির্ভরতাÑ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কেন্দ্র সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না।পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াটের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, যা লোডশেডিং আকারে গ্রাহকের ওপর পড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগও স্বীকার করেছে, এই ঘাটতি সামনের দিনে আরও বাড়তে পারে।

দেশে উৎপাদন সক্ষম বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও প্রয়োজনীয় জ;ালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা এবং সামনের দিনগুলোয় জ;ালানি আমদানি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করলে এমনই আভাস পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ;ালানি তেল আমদানি, কয়লা আমদানি, এমনকি এলএনজি আমদানিতে সংকট রয়েছে। ফলে গ্রীষ্মে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে সরকার।গতকাল বিকাল ৫টায় পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২১৮ মেগাওয়াট, উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১২ হাজার ৮৬৬ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয়েছে দুই হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট। পিজিসিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, উৎপাদন মূলত বিতরণ কোম্পানিগুলোর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ঠিক করে। পিডিবির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেশন বা উৎপাদন কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

ইরান যুদ্ধই কি জ;ালানি আমদানিতে সংকট? ইরান যুদ্ধের কারণে জ;ালানি পণ্য বিশেষ করে জ;ালানি তেল, কয়লা, এলএনজি, আমদানি কিছু সংকট তৈরি হলেও দেশের আর্থিক সংকট বড় কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর সরকার তার নিয়মিত উৎস থেকে যে জ;ালানি তেল আমদানি করত, এখন বিকল্প একাধিক উৎস থেকে জ;ালানি আমদানি করছে। সেক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র বা জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির চেয়ে অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ আমদানির যে পরিকল্পনা করেছে তাতে দেখা যায়, ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি ও সরবরাহ করতে হলে সরকারের যে পরিমাণ অর্থ সংস্থান করতে হবে সেখানে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হবে। ফলে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ছোট করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল জ;ালানির কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কম চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কিছু গ্যাসভিত্তিক এবং সক্ষমতার পুরোটা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাওয়া।বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, গ্রামে ও শহরে লোডশেডিং দিয়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ গ্রীষ্মকালীন সময়ে লোডশেডিংমুক্ত রাখার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নাই।বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। একই সময়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি হতে পারে ৩ হাজার মেগাওয়াট। এ ঘাটতি পূরণে লোডশেডিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।