ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। একই দিন দেশটিতে ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনও শেষ হবে। বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির দপ্তর এ তথ্য জানায়।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর জোটের সামরিক মিশন শেষ ও সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত তারিখ। ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমানে ইরাকে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং প্রত্যাহারের পর তাদের কোথায় নেওয়া হবে, তা তিনি জানাননি।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন যুদ্ধসেনা ইরাক ছাড়লেও ২০১৪ সালে আইএসআইএসের উত্থানের পর বাগদাদের অনুরোধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আবার দেশটিতে ফিরে আসে।
২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ ইরাকে আইএসআইএসবিরোধী জোটের সামরিক মিশন ধাপে ধাপে শেষ করার বিষয়ে একমত হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরাকের কেন্দ্রীয় ও ফেডারেল এলাকা থেকে জোটের সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কুর্দিস্তান অঞ্চলে কিছু মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী ও কুর্দিস্তানের পেশমার্গা এখন দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবে। সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাগদাদ।
৩০ সেপ্টেম্বরের প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটবে।