ঢাকায় শীত আরো বাড়ল, তাপমাত্রা ১২.৩ ডিগ্রিবাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করতে বললেন আসিফ নজরুলমনোনয়ন ফিরে পেতে মানতে হবে সাত নির্দেশনাপাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধজানুয়ারিতে পাঁচ শৈত্যপ্রবাহ, হতে পারে বৃষ্টি
No icon

জানুয়ারিতে পাঁচ শৈত্যপ্রবাহ, হতে পারে বৃষ্টি

চলতি মাসে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে তীব্র হতে পারে একটি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়/নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে দুই-তিনটি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক-দুটি মাঝারি থেকে তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। কখনও কখনও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। পূর্বাভাসে নদ-নদীর অবস্থায় বলা হয়েছে- জানুয়ারি মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে।

এদিকে দেশের ৯ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে এসব জেলার ওপর দিয়ে চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।গতকাল আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চললে, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া, দেশের রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া এক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জলি বলেন, শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার কমলেও ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতের প্রকোপ থাকবে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল ঢাকায় এ বছরের সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৭ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহী, ঈশ্বরদী ও বদলগাছীতে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার আবহাওয়ার খবর জানিয়েছেন আমাদের সময়ের প্রতিনিধিরা-

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে নওগাঁ : পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র; যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। স্থানীয়রা বলেছেন, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেশ শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশার ঢেকে থাকে পথঘাট এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠাণ্ডার অনুভূতি।

সুন্দরগঞ্জে ঠাণ্ডায় জবুথবু জনজীবন : চলতি শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা, কন কনে ঠাণ্ডা, ও হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই জনজীবন জবুথবু হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আটটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের ভাসমান পরিবারগুলো ঠাণ্ডায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ঘন কুয়াশা এবং ঠাণ্ডায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঠাণ্ডার কারণে নানাবিধ রোগব্যধির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মো. আতিয়ার রহমান সোহাগ বলেন, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে হাঁপানি, অ্যাজমা, নিমোনিয়া, পেটের পীড়া, সর্দি-কাশিসহ নানাবিধ রোগীর সংখ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসের তুলনায় রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেড়ে গেছে। মূলত ঠাণ্ডার কারণে এসব রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কুড়িগ্রামে কনকনে ঠাণ্ডা : কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীত জেঁকে বসেছে। শুরু হয়েছে হিমেল হাওয়া। কনকনে ঠাণ্ডায় গ্রাম-শহর কিংবা চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষজন পড়েছে বিপাকে। শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন শত শত রোগী কুড়িগ্রাম আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালে শীতের প্রভাবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, শনিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত রাঙামাটির জীবনযাত্রা : তীব্র শীতে বিপর্যস্ত রাঙামাটির জনজীবন। হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা হ্রাসে রাঙামাটির জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। রাঙামাটি জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, শনিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিকাল গড়াতেই ঠাণ্ডার দাপট বাড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগ ও অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ে শীতার্তদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ : রাঙামাটির সুবলংয়ের দুর্গম এলাকায় সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শীতার্ত দরিদ্র ২৯ পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ওই এলাকার রকবিবছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সভাকক্ষে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রিতেষ চাকমার সভাপতিত্বে এতে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিহারী চাকমাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উন্মেষের উদ্যোগে রাঙামাটি সদর উপজেলার পেরাছড়ায় দরিদ্র ৫০ পরিবারের মধ্যে ৫০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির উপদেষ্টা স্নেহাশীষ চাকমা। একই দিন বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় গরিব ও হতদরিদ্র ৬০ পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।