এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।তিনি বলেছেন, একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কারও সবটুকু যোগ্যতা বোঝা যায় না, ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হয়ে যায় না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে আবার এগিয়ে যেতে হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের পর উত্তীর্ণ ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পোস্টটি দেন শিক্ষামন্ত্রী।প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে এই সময়ে নিজেকে একা ভেবো না। পরিবারের সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলো। একটু সময় নাও, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখো। আবার এগিয়ে যাওয়ার পথে আমরা তোমাদের পাশে আছি।শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে শুধু ওই বিষয়গুলোয় আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একটি বা দুটি বিষয়ের জন্য দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা না করে তারা যেন দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে আবার চেষ্টা করতে পারে, সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের পাসের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ফল শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন ও ঘাটতির বাস্তব চিত্র সামনে এনেছে। এখন সেই ঘাটতি কাটিয়ে শিক্ষার মান বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, কম পাসের হার আমাদের অর্জন নয়। আমাদের সাফল্য হবে, যখন শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিখে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে, নিজের যোগ্যতায় ভালো ফল করবে।তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না এবং প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন যথাযথ হচ্ছে কি না, সবকিছু গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রস্তুতিতে সহায়তার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তাদের কথা শুনতে ও আশ্বস্ত করতে হবে। ফল যা-ই হোক, পরিবারে তাদের ভালোবাসা ও সম্মানের জায়গা অটুট রয়েছে, সেই বিশ্বাস দিতে হবে।পোস্টে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তাদের সাফল্যের পেছনে নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও পরিবারের অবদান রয়েছে।