ঢাকায় ১৬ প্লাটুন আনসার মোতায়েনশিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাল ঢাবি কর্তৃপক্ষআমার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবেঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবেআজ সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি
No icon

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে অপপ্রচার, মামলা করলো এনসিটিবি

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলা করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় এ মামলা করা হয়।জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সচিব মোছা. নাজমা আখতার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অপপ্রচার যারা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা মামলা করেছি। আমরা কারও নাম উল্লেখ করিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খুঁজে বের করবেন, কারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।তিনি আরও বলেন, আমাদের নতুন বই এখনো ছাপার কাজই শেষ হয়নি। বিতরণ হতে অনেক দেরি। এরমধ্যে অনেকে নতুন বছরের বই বলে ফেসবুকে ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে উসকানি দিয়ে তাদের আন্দোলনে নামাচ্ছেন। নতুন শিক্ষাক্রমের আগামী বছরের বই এখনো প্রকাশই তো হয়নি। অথচ তারা সেই বই বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। কীসের ভিত্তিতে তারা এটা করছেন? তারা নতুন বই পেলেন কোথায়?

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হলে কোচিং সেন্টারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য কোচিং সেন্টারের মালিকরা নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তারাই কিছু লোককে রাস্তায় নামিয়েছেন। ফেসবুকে নানা নামে গ্রুপ খুলেছে অপপ্রচারকারীরা। তারা জানান, অপপ্রচারকারীরা প্রিন্টিং প্রেস থেকে আগেই কপি সংগ্রহ করছে। বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। তারা পরবর্তীতে আরও বড় কিছু ঘটাতে পারে। তাদের রুখতে মামলা করা হয়েছে।মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, উনারা (এনসিটিবি কর্মকর্তারা) একটা অভিযোগ দিয়েছেন। গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা অঞ্চলের ১১ জেলার ৪৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ও মাউশির মহাপরিচালক। সেখানে মন্ত্রী শিক্ষাক্রম ও বই নিয়ে অপপ্রচার রুখতে শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকরা মন্ত্রীকে জানান, যারা মানববন্ধন করছেন, তারা প্রকৃত অভিভাবক নন। বিভিন্ন কোচিং ও গাইড ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িতরা উসকানি দিয়ে অভিভাবকদের আন্দোলনে নামাচ্ছেন।এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল শাখার সামনে, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে শিক্ষাক্রম সংশোধন ও পরীক্ষা পদ্ধতি বহালের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন অভিভাবকরা। ‘সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলন অভিভাবক ফোরাম’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই নিয়ে আপত্তি তুলে ধরেন তারা।রাজধানী ঢাকার বাইরেও বরিশাল, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে একই ফোরামের ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। এছাড়া আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দিয়েছে এ ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ফোরাম।