→ হরমুজ প্রণালিতে সাতটি জাহাজে আগুন→ ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের নির্দেশ→ আসামি নিয়ে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানচাপায় এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত→ ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র→ কেমন থাকবে আজ ঢাকার আবহাওয়া
No icon

ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বজুড়ে এখন এক গভীর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া জীবনযাত্রার ব্যয়, স্থবির মজুরি এবং মৌলিক সেবাগুলোতে অপর্যাপ্ত বরাদ্দের পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতির পিঠে চেপে বসা পাহাড়সম ঋণের বোঝা। সরকারগুলোর বছরের পর বছর ধরে করা অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের প্রবণতা এখন আন্তর্জাতিক বন্ড-বাজারে এক নতুন সংকট তৈরি করেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে বন্ড বিক্রির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার এই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর ঋণের চড়া সুদ মেটানোর চাপ দিন দিন আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।বর্তমানে এই বৈশ্বিক ঋণের দৌড়ে সব দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের পুরো দেশের জাতীয় অর্থনীতি অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনের ১২৭ শতাংশের সমান। বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ঋণের চাহিদা মেটাতে বিপুল সহায়তা করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের সুবিধার কারণে সুবিধা পেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ঋণ নেওয়ার ক্ষমতাও কিন্তু একেবারেই অসীম নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পর ঋণের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে- চীন এবং জাপান। চীনের ঋণের পরিমাণ ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট অর্থনীতির ১০৪ শতাংশ। অপরদিকে ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ থাকলেও প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জিডিপির তুলনায় ঋণের সর্বোচ্চ অনুপাত জাপানের; যেখানে দেশের অর্থনীতির তুলনায় তাদের ঋণের অনুপাত ১৯৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ঋণ ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের অর্থনীতির ১০২ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা ফ্রান্সের সরকারি ঋণ ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ১১৮.৫ শতাংশ। ইতালি ও জার্মানির বন্ড-বাজারেও বিশাল ঋণের অঙ্ক দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সরকারি ঋণ জিডিপির অনুপাতে আরও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথকে কঠিন করে তুলবে।

বন্ডের বাজার যখন মন্দা হয় তখন তার সুদের হার বা ইয়েল্ড বেড়ে যায়, যার ফলে নতুন ঋণ নিতে সরকারগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাশুল গুনতে হয়। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের জন্য বর্তমানে ইউরোপের অর্থনীতিগুলোকে এমন চড়া সুদ দিতে হচ্ছে, যা ২০০০ সালের গোড়ার দিকের পর আর দেখা যায়নি। ইউরোজোনের ঋণ সংকটের সময়ে যেসব দেশ ঋণের ভারে জর্জরিত হয়েছিল, বর্তমান সময়ে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিকেও সেই স্তরের কাছাকাছি বা তার চেয়েও বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। এমনকি জার্মানির তুলনায় ফ্রান্সের সুদের ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে- যা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ফরাসি বন্ডে অর্থ খাটানোর ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখতে পাচ্ছে।বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা পৃথিবীর প্রতি মানুষের জন্য গড়ে প্রায় ৪৪ হাজার ডলার ঋণের সমান। এদিকে ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম।