→ প্রবাসীদের টাকার হিসাবে সুবিধা আরও বাড়ল→ ইন্দোনেশিয়ার ধোঁয়ায় মালয়েশিয়ার কয়েকটি রাজ্যে শুক্রবার স্কুল বন্ধ ঘোষণা→ টানা দুই মাস অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকোচন→ ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা→ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছেই গেল এনসিটি
No icon

টানা দুই মাস অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকোচন

সংকোচনের ধারায় রয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৪৮ দশমিক ৬-এ নেমে এসেছে। এ নিয়ে টানা দুই মাস পিএমআই কমলো। এর আগে গত আগস্ট মাসে পিএমই জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৪৯ দশমিক ৯-এ নেমে আসে।গতকাল বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) পিএমআই সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে উৎপাদন খাতে অব্যাহত দুর্বলতা, নির্মাণ খাতে পুনরায় সংকোচন এবং সেবা খাতে প্রান্তিক সংকোচন সামগ্রিক সূচকের নিম্নমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে কৃষি খাতে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।পিএমআই ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। স্কোর ৫০-এর বেশি হলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। আর স্কোর ৫০ থাকার অর্থ ওই মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সেপ্টেম্বর মাসের পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি খাতে টানা ত্রয়োদশ মাসের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। যদিও এ খাতের পিএমআই ১ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে ৫৫.২-এ দাঁড়িয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের পিএমআই ২ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমে ৪৪.৮-এ নেমে গিয়ে সংকোচন নির্দেশ করেছে। উৎপাদন খাতে নতুন অর্ডার, রপ্তানি আদেশ, উৎপাদন, কাঁচামাল ক্রয়ের মজুত, সমাপ্ত পণ্যের মজুত ও আমদানিসহ সবগুলো সূচকই আগের তুলনায় দ্রুত হারে সংকুচিত হয়েছে। কর্মসংস্থান আবারও সামান্য সম্প্রসারণে ফিরে এসেছে। তবে ইনপুট পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নির্মাণ খাত আগস্টে সম্প্রসারণে থাকার পর সেপ্টেম্বরে পুনরায় সংকোচনে ফিরে এসেছে এবং এ খাতের পিএমআই ৩ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে ৪৮ দশমিক ৫-এ নেমেছে। নতুন ব্যবসা ও নির্মাণ কার্যক্রমে সংকোচন দেখা গেছে। তবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সেবা খাতে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো প্রান্তিক সংকোচন অব্যাহত রয়েছে। এ খাতের পিএমআই শূন্য দশমিক ২ পয়েন্ট কমে ৪৯-এ দাঁড়িয়েছে। নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় সংকোচনে ফিরে এসেছে। কর্মসংস্থানে সংকোচনের গতি কিছুটা কমেছে।সেপ্টেম্বরের পিএমআই সম্পর্কিত জরিপে উত্তরদাতাদের মতামতে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক ও মিশ্র প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছে। আসন্ন শীতকাল ও ব্যবসার মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনায় আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের উন্নতির আশাও করেছে কিছু প্রতিষ্ঠান।তবে অনেক উত্তরদাতা দফায় দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামাল ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, ভোক্তাদের দুর্বল ক্রয়ক্ষমতা, গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মনে করেছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আগাম পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়া, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার এবং ব্যয়ের চাপ কমার ওপর নির্ভর করবে।