বিশাল ডিজিটাল কর্মযজ্ঞে রূপ নিচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডদুপুরের মধ্যে ১৬ জেলায় বৃষ্টির শঙ্কাগরম থেকে বাঁচতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা চাইলেন আদালতঅবসরপ্রাপ্ত ৬৫ হাজার শিক্ষকের পেনশন বিতরণ আগস্টে শুরু
No icon

হাউজি খেলার ওপর ২৫ শতাংশ হারে উৎসে করের প্রস্তাব

বাংলাদেশে লটারি, শব্দজট, কার্ড গেম, অনলাইন গেমসহ এ–জাতীয় অন্যান্য খেলা থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর আগে থেকেই কর রয়েছে। এবার প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খেলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাউজি, বেটিং ও ঘোড়দৌড়। এসব খেলার পুরস্কারের ওপর এখন থেকে কর দিতে হবে। নতুন কিছু খাতকে এই তালিকায় যুক্ত করার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে এই খাতের করের পরিমাণও।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে এসব খেলার ওপর ২৫ শতাংশ হারে উৎসে করের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এই করহার ২০ শতাংশ। 

আয়কর আইন ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী, পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থ হস্তান্তরের আগেই আয়কর কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়ম অনুযায়ী এই কর কেটে রাখবেন। পুরস্কারটি যদি নগদ অর্থে না হয়ে কোনো পণ্য বা সম্পত্তি হয়, তবুও তার বাজারমূল্যের ওপর একই হারে কর প্রযোজ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া পাড়া–মহল্লার বিভিন্ন ক্লাবে হাউজি খেলা, অনলাইনে নানা ধরনের বেটিংয়ের আয়োজন হয়। তবে বাজেটে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার ওপর করারোপের প্রস্তাব নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, সরকার এই ধরনের জুয়া বন্ধে একদিকে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। অন্যদিকে নতুন করে করের আওতায় এনে এসব খেলাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, এ নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, বেটিং ও আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা বন্ধে সম্প্রতি সরকার ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ শীর্ষক নতুন আইনের খসড়ায় তৈরি করেছে। ১৮ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, জুয়াসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বা হচ্ছে, এমন ‘যুক্তিসংগত বিশ্বাস’ তৈরি হলেই তল্লাশি, জব্দ, এমনকি গ্রেপ্তারও করা যাবে। এর জন্য লাগবে না আদালতের কোনো পরোয়ানা।

একদিকে কঠোর আইন করে সরকার অনলাইন বেটিং বা জুয়া বন্ধের চিন্তা করছে। অন্যদিকে করারোপের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘অর্থবিলটি সংসদে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এ নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তাই করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে এটিই চূড়ান্ত, সেটি এখনো বলা যাবে না।’

বাজেটে নেওয়া সরকারের এই উদ্যোগটি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, জানতে চাইলে আয়কর বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিকভাবে এসব খেলাকে আয়যুক্ত উৎস হিসেবে বিবেচনা করে করারোপ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটার বৈধ-অবৈধ কিংবা নীতিগত বিষয়টি সামনে আসে। আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাজেটে এই প্রস্তাব রাখা হয়েছে।