বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেতভোটারদের দশ আঙুলের ছাপ নেবে ইসিপিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগকে কীভাবে আয়কর রিটার্ন জমা দেবেনজাতিসংঘে উঠছে একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবি
No icon

অস্থির চালের বাজার নতুন দুশ্চিন্তা

পুরো মৌসুমেই ভোক্তাকে ভুগিয়ে যাচ্ছে প্রধান খাদ্যশস্য চাল। জ্বালানি তেলের নতুন দর চালের বাড়তি এই দামের আগুনে যেন ঘি ঢেলেছে। গেল চার দিনে পাইকারিতে সব ধরনের ৫০ কেজি চালের বস্তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খুচরায় প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে তিন থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। শুধু কি চাল! বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বাজারের এই অস্থির পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্রেতারা।রাজধানীর মহাখালী, কারওয়ান বাজার, তেজকুনীপাড়াসহ কয়েকটি বাজারে গতকাল সোমবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকায়। বিআর-২৮ জাতীয় চাল ৫৮ থেকে ৬০, মিনিকেট ৭০ থেকে ৭৫ এবং নাজিরশাইল চাল ৭৫ থেকে ৯০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।তেজকুনীপাড়া এলাকা থেকে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল কিনে বাসার দিকে রওনা হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী গফুর আহমেদ। চালের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এক বস্তা চালে ২৫০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। শুধু চাল নয়, সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বেশ কয়েকটি কারণে চালের দাম বাড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, বন্যার কারণে এ বছর হাওরে ধান উৎপাদন কম হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী চাল আমদানির উদ্যোগ নিলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে আমদানি করছে না। এ কারণে চালের বাজার আগে থেকেই অস্থির।তবে এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রতি ট্রাকে ভাড়া বেড়েছে চার থেকে ছয় হাজার টাকা। অন্যদিকে বেড়েছে চালকলগুলোর খরচও। এসব কারণে মিলগেট ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।কারওয়ান বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জালাল আহমেদ বলেন, এ বছর বন্যায় ফলন কম হয়েছে। এ কারণে মৌসুমেও দাম বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে এখন মিলগেটেই প্রতি ৫০ কেজি বস্তায় দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ট্রাক ভাড়া বাবদ আগে খরচ হতো ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। এখন প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাক মালিকরা। ফলে এখন খরচ পড়ছে ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা। ভাড়া এবং মিলগেটে চালের দাম বাড়ার এই চাপ পড়েছে খুচরা বাজারে।

সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের সেলিম রাইস এজেন্সির বিক্রয়কর্মী জামাল হাওলাদার বলেন, পাইকাররা প্রতি ৫০ কেজি বস্তার চালে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মতো দাম বাড়িয়েছেন। এ কারণে খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়তি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। গত ৩০ জুন থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ টনের বেশি চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ডলারের দাম বাড়ার কারণে এখন আমদানিতে ধীর গতি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১৫ হাজার ৫৫০ টন চাল আমদানি হয়েছে।