→ ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পানামা, ভয়াবহ ক্ষতির শঙ্কা→ ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ→ মধ্যরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ→ দিল্লিতে বিমান থেকে আটক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দীপকে→ ধানক্ষেতজুড়ে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পড়ে ছিল কিশোরীর মরদেহ
No icon

ধানক্ষেতজুড়ে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পড়ে ছিল কিশোরীর মরদেহ

ক্ষেতের ধানগাছগুলো এলোমেলো। বেশ কিছু ভেঙে পড়ে আছে। কারও ছোটাছুটি বা ধস্তাধস্তির চিহ্ন স্পষ্ট। স্থানীয়দের ধারণা, ঘাতকের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে ক্ষেতজুড়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেছিল স্কুলছাত্রীটি।কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক সংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার ধানক্ষেত থেকে গত বৃহস্পতিবার ভোরে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) লাশ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। সে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। এর পর কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বাসে করে বুধবার রাত ১২টার দিকে নগরীর হোটেল নুরজাহানে নামে এবং সোয়া ১২টার দিকে বেরিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁর গন্তব্য ছিল বাসা। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাইয়ের পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জগৎপুর গ্রামের আবু তাহের বলেন, এলাকার লোকজনের কাছে খবর পেয়ে মাঠের পাশে গিয়ে দেখি, ধানক্ষেতে একটি অটোরিকশা পড়ে আছে। এর আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন। ধানক্ষেতে গিয়ে দেখি, নারীর লাশ। লাশের মাথা কাদায় গুঁজে দেওয়া ছিল। গলায়ও গামছা প্যাঁচানো ছিল। এক পর্যায়ে ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।পুলিশ জানায়, অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। চালক সুমনকে গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরী থেকে আটক করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়।সন্দেহভাজন হিসেবে তাজমিনের নতুন ও পুরোনো একাধিক বন্ধুর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। গতকাল সন্ধ্যায়   এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশ সুপার বলেন, আটক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হত্যার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। হত্যায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একমাত্র সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা-বাবা

তাজমিনের মরদেহ গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় যশোরে সদরের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গভীর রাতে তাজমিনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ কুমিল্লা শহরে বসবাস করত।সাংবাদিকরা বাড়িতে গেলে তাজমিনের মা কেয়া খাতুন বলেন, আমার কলিজার পাখিটা চলে গেছে।তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম কুমিল্লা শহরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনি অনেকটা বাকরুদ্ধ। থেমে থেমে তিনি বলেন, ৪ তারিখ বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয় মেয়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সে মেসেজ লাইভ লোকেশন (যেখানে অবস্থান করছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, তখন আমি ঘুমে ছিলাম। সকালে মেসেজ দেখি। লাইভ লোকেশনে গিয়ে দেখতে পাই, মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে।