এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে পুরো বাকিতে পণ্য আমদানির সুবিধাওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা১৩ জেলার জন্য দুঃসংবাদগাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে গুপ্তহত্যার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীরবিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী
No icon

ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে মেগা পরিকল্পনা

বাংলাদেশ বিশেষ করে রাজধানীবাসির জন্য ভয় ও আতঙ্কের নাম ভূমিকম্প । ভবন একটু নড়েচড়ে উঠলেই দৌড়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন শহরের বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ। বড় ধরনের ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ আসলে কতটা প্রস্তুত সে প্রশ্ন ওঠে বারবার। আশার খবর হলো, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমিকম্প মোকাবিলায় কাজ করতে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে বলেছেন। শুধু তাই নয়, ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকার মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই নানামুখী কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

গত জুনের শেষ দিকে ভেনেজুয়েলায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু ভবন। ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর আরও বেশি নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; কিন্তু আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ নির্মাণব্যবস্থা, কার্যকর নগর পরিকল্পনা এসবের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত। সরকার এখন থেকে পরিকল্পনা না করলে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এক দিন দাঁড়াতে হতে পারে সবাইকে। ভূমিকম্পন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নগরী হিসেবে বিবেচিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুরোনো ভবন, সংকীর্ণ সড়ক, অত্যধিক জনঘনত্ব এবং সীমিত উদ্ধার সক্ষমতার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং ভূমিকম্প ও ভূতত্ত্ব প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের দেশে ভূমিকম্প হলে ৯০ শতাংশ মানুষ ভবনের নিচে চাপা পড়ে মারা যাবে। খোলা জায়গায় থাকা ১০ শতাংশ মানুষ বাঁচানো যাবে। ৯০ শতাংশ মানুষের জন্য কর্মপন্থা জরুরি। ভবন চিহ্নিত করতে সরকারি কোনো অর্থও ব্যয় হবে না, শুধু সরকারের নির্দেশনা প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার উদাহারণ টেনে তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ ভবন চাপায় মারা গেল। তাই ভূমিকম্প নিয়ে আমি বলব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি দ্রুত দুর্বল ভবন চিহ্নিত করা এবং সেগুলো মজবুত করতে হবে। আর নতুন ভবন বিল্ডিং কোড মোতাবেক করতে হবে।