যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে: নেতানিয়াহুপুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শুরুপহেলা বৈশাখ আজচট্টগ্রাম থেকে ১৯ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু
No icon

পহেলা বৈশাখ আজ

বাংলা নববর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ শুরু আজ। ১৪৩২ পার করে ১৪৩৩-এ পা দিলো এবারের বৈশাখ। বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণিল আয়োজনে এবারও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এবারের স্লোগান নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান । বাংলা নববর্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।বাংলা নববর্ষকে আমরা যে কত আদরে-সোহাগে বরণ করে নিই, তার কোনো সীমা নেই। ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ছয় ঋতুর ছয় রূপ। সব রূপেই মুগ্ধ হতে হয়। কালবৈশাখী কখনো কখনো মানুষের সব সম্ভাবনা, স্বপ্ন উড়িয়ে নিয়ে গেলেও বুনে নতুন স্বপ্ন, বুনে দেয় নতুন প্রত্যাশার বীজ। তাই মানুষ ঝড়ে ভেঙে পড়লেও নতুন তেজে বলীয়ান হয়ে সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়। ছয় ঋতু মানে গ্রীষ্ম দিয়ে শুরু। এরপর বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।

আজকের যে মাস এবং দিনগণনার বাংলা ক্যালেন্ডার, একসময় তা ছিল না। তখন ফসলি মৌসুম ধরে হতো বর্ষপঞ্জি। এতে কৃষকের পক্ষে খাজনা দেওয়া সহজ হয়। মোগল সম্রাট আকবর এই বর্ষপঞ্জিকা প্রবর্তন করেন। এতে কৃষকেরা খাজনা দিয়েও নবান্নের উৎসবে মাততে পারে। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের পুরোনো হিসাব মিটিয়ে হালখাতা খোলেন। হালখাতা মানে নতুন হিসাবের খাতা। শৈশবে সবাই হালখাতার মানে বুঝত, বাবার পরিচিত দোকানগুলোতে বাবার সঙ্গে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাওয়া। এখন হালখাতার মানে সবাই বুঝি, নতুন বছরের হিসাব নতুন করে শুরু করা।পৃথিবীর সব মানুষ নিজের কল্যাণ কামনা করে। সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি চায়। বাংলা সম্পর্কে চিরায়ত বাণী, একদিন বাঙালি ছিলামরে। এই গৌরব আমরা ভালো-মন্দ, সুখে-দুঃখে সব সময় অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। আমরা সব নববর্ষের নবপ্রাতে এবং সদা-সর্বদা আমরা যে বিশ্বমণ্ডলে বাস করি, সেই বিশ্বমণ্ডলকে সুখময়, শান্তিময় দেখতে চাই। যুদ্ধমুক্ত, মৃত্যু ও রক্তপাতহীন দেখতে চাই। যুদ্ধ যে কারণে সংঘটিত হয়, তার জন্য যারা জীবন দেয়, পঙ্গু হয়ে সারা জীবনের জন্য অচল হয়ে পড়ে, সভ্যতার যে ক্ষতি হয়; ধ্বংস হয়-তার জন্য এই পর্যুদস্ত, দুর্ভোগ এবং অভিশাপের জীবন যারা যাপন করে, তারা একটুও দায়ী নয়। আজ ইসরায়েলের কামানের গোলায়, বোমায় গাজায় যে নিরীহ নারী-শিশু, বৃদ্ধা-বৃদ্ধসহ শিশুরা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যে শিশু-নারী-পুরুষ প্রাণ দিচ্ছে, সভ্যতার সব নিদর্শন ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে, নির্মম সত্য হিসেবে এর জন্য দায়ী ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা প্রদর্শন, মুনাফার লোভ, শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে পাওয়া যায় এ দেশের কৃষি ও খাজনা আদায়ের এক চমৎকার সমন্বয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মোগল সম্রাট আকবরের আমলে হিজরি সন অনুযায়ী খাজনা আদায় করতে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হতো। চান্দ্র মাসের হিসাব কৃষকদের ফসল কাটার সময়ের সঙ্গে মিলত না বলে অসময়ে খাজনা দেয়া ছিল দুঃসাধ্য।এ জটিলতা নিরসনে ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর তার রাজজ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে একটি নতুন সৌর সন প্রবর্তনের দায়িত্ব দেন। ফসল কাটার সময়কে ভিত্তি করে তৈরি এই ফসলি সন কালক্রমে আজকের বাংলা সন । মূলত অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই পঞ্জিকার জন্ম হয়েছিল।এক সময় বৈশাখ মানেই ছিল গ্রাম ও শহরের ব্যবসায়ীদের হালখাতা করার মহোৎসব। লাল সালুতে মোড়ানো নতুন হিসাবের খাতা খোলা হতো পহেলা বৈশাখে। পুরনো বছরের সব দেনা-পাওনা চুকিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মিষ্টিমুখের মাধ্যমে গড়ে উঠত এক আত্মিক সম্পর্ক। আধুনিক ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হালখাতার সেই জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও, ঐতিহ্যের টানে আজও অনেক পুরান ঢাকা বা গ্রামবাংলার জনপদে টিকে আছে এই প্রথা।