ট্রাম্পের নজরে ইরানের তেল, খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিতটিকার মজুত শূন্য, গভীর সংকটে স্বাস্থ্যব্যবস্থাযুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ২০৭৬সংসদে বিরোধী দলের নোটিশ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনাঢাকায় ফিরতে দুর্ভোগের শেষ নেই
No icon

সংসদে বিরোধী দলের নোটিশ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা

গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে আলোচনার জন্য গতকাল রোববার সংসদে মুলতবি নোটিশ দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। নোটিশের বৈধতা এবং আলোচনার সময় নির্ধারণে সরকারি ও বিরোধী দলের উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। ডেপুটি স্পিকার আগামী মঙ্গলবার দিনের কার্যসূচি শেষে আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেছেন। অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি না হলেও বিরোধী দলের নোটিশে তিন দশকের বেশি সময় পর আলোচনার সুযোগ দিয়েছেন স্পিকার।এই রুল জারির পর স্পিকারের চেয়ারে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মাইক বন্ধ করে তাঁকে নিজ আসনে বসার অনুরোধ করেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ নোটিশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এ সময় বিরোধী দলের এমপিরা দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। দুই পক্ষের হট্টগোলের মধ্যে কায়সার কামাল স্পিকারের আসন থেকে বলেন, ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার আলোচনা হবে।সালাহউদ্দিন আহমেদ এরপরও নিজ আসনে দাঁড়িয়ে মাইক ছাড়াই কয়েক মিনিট বক্তৃতা করেন। যদিও তা শোনা যায়নি। বিরোধী দলের এমপিরাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী না বসা পর্যন্ত আসন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এ সময় বলেন, তারা স্পিকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। স্পিকার তখন উভয় পক্ষকে শান্ত করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু করেন।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের অনুপস্থিতিতে রোববার সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এই হট্টগোলের সময় নিজ আসনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পুরো ঘটনাপ্রবাহ চুপচাপ দেখেন।দ্বিতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রস্তাবে ২১ বার সংসদের কার্যক্রম মুলতবি করে আলোচনা হয়েছিল। পঞ্চম সংসদে পাঁচবার আলোচনা হয়। দুবারই বিরোধী দলের আসনে ছিল আওয়ামী লীগ। সরকারে ছিল বিএনপি। পরের সাতটি সংসদে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবে সংসদে আলোচনার নেই। ১৯৯৪ সালের পর এবার প্রথম আলোচনা হতে যাচ্ছে। যদিও সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি করে নয়, দিনের সব কাজ শেষে আলোচনা হবে।কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, মুলতবি প্রস্তাবে আলোচনার পর ভোট হবে সংসদে। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই প্রস্তাবে বিরোধী দলের জয়ের সম্ভাবনা নেই সংসদে।

বিরোধী দলের মুলতবি নোটিশ
রোববার অধিবেশন শুরুর আগে জামায়াত-এনসিপি জোটের ৭৭ এমপির সংসদীয় দল সভা করে। এর আগে কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারা অনুযায়ী, মুলতবি নোটিশ দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।এতে বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ জরুরি-জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি করে এ বিষয়ে আলোচনা হোক। ৬৪ ধারায় প্রশ্নোত্তর পর্বের পর এ নোটিশ উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ সময় সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, দিনের কার্যক্রম চলাকালে মুলতবি নোটিশ উত্থাপনের রীতি নেই।মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে বিরোধীদলীয় নেতা ফ্লোর নিয়ে নোটিশ উত্থাপন শুরু করেন, যা বিরতির পর সমাপ্ত করেন। তিনি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ জারির প্রেক্ষাপট, গণভোট ও তার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার বিষয় তুলে ধরেন। জামায়াত আমির বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি। জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কাম্য নয়।

আইনমন্ত্রী সময় চাইলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তুললেন
বিরোধীদলীয় নেতা প্রস্তাবটি উত্থাপন করার পর ফ্লোর নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবটি যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী। এ বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। তবে আলোচনার আগে একটু সময় প্রয়োজন। আলোচনা করতে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সামনে সংবিধান, জুলাই সনদ, বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদশের কপি থাকা প্রয়োজন। যদি সম্ভব হয় মদিনা সনদ, হবস, লকস এবং রুশোর সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরির বই এবং ১৯৭২ সালের গণপরিষদ আদেশ ও তার প্রেক্ষাপটও থাকা উচিত।আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে জাতি এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। জাতি চায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হোক এবং সরকার সে পথ ধরেই হাঁটছে। জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা-উপধারা ধরে কীভাবে সরকার এগিয়ে চলছে, তা আমরা দেখাব। এটাও দেখাতে চাই, বিরোধী দল ইতোমধ্যে জুলাই সনদের কোন কোন ধারা লঙ্ঘন করেছে।