ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়বে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।শফিকুল আলম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করতে পারেন। সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে হ্যান্ডওভার (দায়িত্ব হস্তান্তর)হবে। এটা যদি দেখা যায় যে তিন দিনের মধ্যে এমপিরা শপথ নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে ডাকা হবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার জন্য। তিন দিনের মধ্যে এটা হয়ে যেতে পারে। মানে ১৫ ফেব্রুয়ারিতেও হয়ে যেতে পারে, ১৬ ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে। প্রেস সচিব বলেন, আমার মনে হয় না এটা ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।সংবিধানের ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন।
গত ২৮ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয় নবনির্বাচিত এমপিদের কে শপথ পাঠ করাবেন, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে নথি উত্থাপন করেছে। উপদেষ্টার সম্মতি পেলে এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুমোদনের পর এ সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে আদেশ জারি হবে।সংবিধানের ৭৪ (২) অনুচ্ছেদে স্পিকারের পদত্যাগ ও অপসারণের নিয়ম বলা আছে। স্পিকার রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদে বলা আছে, পদত্যাগ বা সংসদ ভেঙে দিলেও নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার পদে বহাল থাকবেন।সংবিধানের ৭৪ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার তাঁর সব দায়িত্ব পালন করবেন। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে পল্টন থানার মামলায় কারাগারে আছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত
আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে শপথের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইন উপদেষ্টা বিষয়টি উত্থাপন করেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয় প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি নতুন এমপিদের শপথ পাঠের জন্য নির্ধারিত হবেন।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আমরা অভ্যুত্থানের সরকার। এরপরও আমরা সংবিধানকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করছি। নতুন যারা আসবে তাদের শপথ সংবিধান অনুসারে হবে।সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদায়ী স্পিকার নতুন এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন। ১৪৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকারের মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছেও এমপিরা শপথ নিতে পারবেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাবেন বলে উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মনোনীত ব্যক্তি ঠিক হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।