শীত ও কুয়াশার তীব্রতা আরও কতদিন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর নতুন বই নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরল শিশুরাতিনদিনের মধ্যে সকল ব্যানার-পোস্টার সরাবে বিএনপি১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবনবছরের শেষ দিন ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান
No icon

নতুন বই নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরল শিশুরা

নতুন বই পেয়ে শিশুদের প্রাণখোলা হাসি। সে হাসি নিয়েই ফিরেছে ওরা বাড়ি। বছরের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন ক্লাসে উঠে বই হাতে পেয়েছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। ঝকঝকে চাররঙা বই উল্টেপাল্টে দেখেছে। অবশ্য একই দিনে একটু ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাধ্যমিক স্তরে। চাহিদামতো না পৌঁছানোয় অনেক শিক্ষার্থী আংশিক বই পেয়েছে। কেউ কেউ একটিও পায়নি।রাজধানীর বনশ্রী, বাড্ডা, রামপুরা, রমনা, খিলগাঁও, আজিমপুর ও লালবাগ এলাকার একাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দুই রকম চিত্র দেখা যায়। সকাল থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের, পরে বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পাঠ্যবই। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসব ছাড়াই নিরিবিলি পরিবেশে চলে বিতরণ কার্যক্রম। রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান করা হয়নি।সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভিড় জমে স্কুলগুলোতে। পরীক্ষার ফল যাচাই করে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন শিক্ষকরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির এবং বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়।

বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ বই এসেছে। আজকের (গতকাল) মধ্যেই সবাই বই পাবে। উৎসব না থাকায় রোল ধরে ডেকে বই বিতরণ করা হচ্ছে এবং বইয়ে কোনো ত্রুটি আছে কিনা, সঙ্গে সঙ্গেই যাচাই করা হচ্ছে। উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল গফুর হক বলেন, বেলা ১১টায় সব শ্রেণিতে একযোগে বই বিতরণ শুরু হয়েছে। আনন্দ প্রকাশ করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিম উদ্দিন বলে বই পেয়েছি। বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধব।খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ক্লাস কিংবা মাঠে সময় কাটাচ্ছে। শিক্ষকরা বই বিতরণের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বই পায়নি। সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এসেছে। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। সবাইকে সমানভাবে বই দিতে হিসাব করছি।এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি বই শতভাগ ছাপা ও বিতরণ করা হয়েছে। তবে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ১৮ কোটি ৩২ লাখ বইয়ের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনেই শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি আমরা দিইনি। দ্রুত বাকি বই সরবরাহ করা হবে।ছাপানো হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি বই শিক্ষাবছরের প্রথম দিনে প্রাথমিকের সব বই শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, এ বছর প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ের মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি বই বিনামূল্যে বিতরণের জন্য মুদ্রণ করেছে সরকার। প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও বিতরণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাশার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।শিক্ষকদের উদ্দেশে বিধান রঞ্জন রায় বলেন, নির্দেশিকা বই করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াতে আপনাদের করণীয় কী, সেসব বিষয়ে সমস্ত ভাষায় ছবির মাধ্যমে আমরা বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি। শিশু খেলায় খেলায় শিখবে এবং তারা আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করবে। শিশুরা কবিতা আবৃত্তি করবে, বিতর্ক করবে, গান গাইবে। তাদের সার্বিক বিকাশ ঘটাতে হবে।