→ বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার শঙ্কা, জরুরি সতর্কতা জারি→ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হতে পারে নভেম্বরে: ক্রেমলিন→ কক্সবাজারে সাগরে নেমে নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার→ বাজারে ক্রেতা কম, তবুও চড়া নিত্যপণ্যের দাম→ ঢাকা মহানগরে বিএনপি কতটা সংহত
No icon

ঢাকা মহানগরে বিএনপি কতটা সংহত

রাজধানী ঢাকায় সরকারি দল বিএনপির জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। কারণ, ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় ঢাকা মহানগর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সরকার গঠনের আট মাসের মাথায় রাজধানীতে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং দলে অভিজ্ঞ নেতাদের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মহানগর দক্ষিণের কমিটি আছে। এর বাইরে কয়েকজন পরিচিত নেতার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা না-থাকা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে।সর্বশেষ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে তাঁর পদত্যাগের পর দলের কেউ কেউ, বিশেষ করে তরুণরা ঢাকা মহানগরে বিএনপির নেতৃত্ব কোন দিকে যাচ্ছে, তাতে চোখ রাখছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠ পর্যায়ের যোগাযোগ এসব বিবেচনায় বিএনপি রাজধানীতে কতটা শক্তিশালী নেতৃত্ব-কাঠামো গড়ে তুলবে, তার প্রতি কর্মীদের আগ্রহ বাড়ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনশীল। নেতাও পরিবর্তনশীল। আজকের কর্মীই আগামী দিনে দলের নেতৃত্ব দেবেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, কারও শূন্যতা থাকে না। কেউ না কেউ তা পূরণ করেই। তবে এটা ঠিক, অভিজ্ঞতার আলাদা মূল্য আছে। বিএনপি যেমন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে কাজ করছে, তেমনি অভিজ্ঞদেরও সামনে রাখছে।তবে দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ঢাকা মহানগরে দল দুর্বল থাকলে বিরোধী রাজনৈতিক দল সহজে সুযোগ পাবে। উদাহরণ টেনে তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারেরও প্রধান দুর্বলতা ছিল তাদের মহানগর কমিটি। তখনও অভিজ্ঞ আর স্থানীয়ভাবে প্রভাশালীদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ জন্য মাঠের রাজনীতিতে তারা পিছিয়ে পড়েছিল।ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক সোহাগ মোল্লা বলেন, বিরোধী দলের রাজনীতি আর সরকারি দলের রাজনীতি এক নয়। তিনি বলেন, ঢাকাকে নেতৃত্বশূন্য করার একটা প্রক্রিয়া চলছে বলে মনে হয়।বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা   বলেন, একসময় ঢাকা মহানগর বিএনপিতে মির্জা আব্বাস আর সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন মূল কান্ডারি। পৃথক বলয়ের হলেও মাঠে একে অপরের পরিপূরক ছিলেন তারা। সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই দ্বৈরথ শেষ হয়। খোকার মৃত্যুর পর তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেই জায়গা কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়ে দলের ভেতরে মতভেদ আছে।মির্জা আব্বাস এখন অসুস্থ। মির্জা আব্বাসের অনুসারীরা মনে করেন, অসুস্থ হওয়ার আগেও তিনি দল থেকে প্রাপ্য সম্মান পাননি। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে অভিমানও আছে।


ঢাকা মহানগরের আরেক বর্ষীয়ান নেতা

সালাহউদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি মারা গেছেন। তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, শেষ দিকে দল তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন করেনি।গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন আমিনুল হক এবং সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, মহানগরের মতো বড় সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি শুধু পদধারীদের তালিকা নয়; এর সঙ্গে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কর্মীদের সমন্বয়, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্নও জড়িত।আমানউল্লাহ আমান, সাইফুল ইসলাম নীরবসহ অনেকে বিভিন্ন সময়ে মহানগর উত্তরের দায়িত্বে ছিলেন। একেক সময় একেক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সংগঠন কতটা স্থায়ী কাঠামো পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে।প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন পুরান ঢাকার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে গত আন্দোলনে রাজপথে তাঁর সক্রিয় অবস্থান ছিল। এর পর ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়। অনেকটা তরুণ বয়সে হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তবে সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক অপরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। সরকারের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়।মহানগর দক্ষিণে এখন রফিকুল আলম, তানভীর আহমেদ রবীনসহ দায়িত্বশীল নেতাদের ভূমিকা, কমিটি পুনর্গঠন এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, মহানগর দক্ষিণের দায়িত্ব পালনকারী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেল এখন কোথাও নেই। উত্তরে এসএ খালেকের ছেলে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু (এস এ সিদ্দিক সাজু), সাইফুল ইসলাম নীরবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা উভয়েই দলের নির্দেশনা বাইরে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন।দলটির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রাজনীতিতে স্থানীয়দের প্রভাব বেশি থাকে। তবে এবার সেই প্রভাব আমরা কতটুকু ধরে রাখতে পারব, সেটা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। মির্জা আব্বাস আর সাদেক হোসেন খোকা বলয়ের বাইরে আছে সালাহউদ্দিনের পরিবার। এর মধ্যে সালাহউদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমেদ রবীন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে একসময় নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুও আলোচিত ছিলেন। স্থানীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, পুরোনো নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দল আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারে।ঢাকা মহানগর বিএনপির সামনে এখন চ্যালেঞ্জ তিনটি কার্যকর কমিটি গঠন, তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ বাড়ানো এবং নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্যেও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।