→ পাঁচ বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা→ কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু আজ→ আগামী বছর ঈদ ও পূজায় কত দিন ছুটি, জানা গেল→ এসিল্যান্ড হলেন প্রশাসন ক্যাডারের ৬২ কর্মকর্তা→ কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখে ট্রাম্প
No icon

মার্কিন নির্বাচনের প্রভাবে তেলের দাম ৯৩ ডলারে নেমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা কমেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ১১ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৬৫ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ১৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৬ ডলার ৯৮ সেন্টে। 

এর আগের কার্যদিবস বুধবারও তেলের বাজারে বড় দরপতন হয়। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৬২ সেন্ট এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮৮ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে। উভয় সূচকের দাম গত ৩১ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে বাড়তি রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর ঘনিষ্ঠ সূত্রের ধারণা, এ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়বে। ফলে দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কাও কমতে পারে। 

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীরা ইরান যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তেলের বাজারে লেনদেন করছেন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমলে যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হওয়া তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমার চাপ তৈরি হবে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এরই মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে জেপি মরগানের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সেপ্টেম্বর মাসে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেল এবং অক্টোবরে ১৪ লাখ ব্যারেল বেশি ছিল। ফলে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তেলের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি করছে।

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।