বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চারটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।শুক্রবার বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, অননুমোদিত পথে চলাচলের চেষ্টার সময় অন্তত দুটি ট্যাংকার সমুদ্রের মাইনে আঘাত হেনে বিস্ফোরিত হয়। এর মধ্যে চতুর্থ ট্যাংকারটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ছিল, যা মাইনের আঘাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর আগুনে জ্বলতে শুরু করে।যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) একটি জাহাজে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, ইরানের লাভান দ্বীপের প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে পারস্য উপসাগরে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে নাবিকেরা নিরাপদে আছেন এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইউকেএমটিওর উল্লিখিত জাহাজটি আইআরজিসির দাবিকৃত চারটি ট্যাংকারের একটি কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।ট্যাংকার বিস্ফোরণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন ভূপাতিত করে আটকের দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ ছাড়া প্রণালির পূর্বাঞ্চলে একটি মার্কিন চালকবিহীন নৌযান ধ্বংসেরও দাবি করেছে তারা।তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নৌযান ধ্বংসের দাবিটি সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সব চালকবিহীন নৌযানের অবস্থান সুরক্ষিত ও হিসাবের মধ্যে রয়েছে। ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মার্কিন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।