ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এই জলপথে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এটিই সর্বোচ্চ ঘটনা।বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, হামলার শিকার চারটি জাহাজ তখন তেল স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত ছিল। রাতভর হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। বাকি তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলায় প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর পতাকা বা জাতীয়তা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।বিবৃতির পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে কঠোর বার্তা দিয়েছে আইআরজিসি। এক হুঁশিয়ারিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রণালীর অন্য অংশে ট্যাঙ্কার চলাচলে সহায়তা করতে বা পাহারা দিতে এগিয়ে আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে।
সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই জানতে হবে যদি এই প্রবণতা চলতে থাকে, তবে সংঘাত আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে। এটি একটি চরম সতর্কবার্তা।বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই হরমুজ প্রণালীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে দাবি করে আসছে ইরান। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তেহরান নিয়মিত সেগুলোতে হামলা চালিয়ে থাকে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা ও পাহারা দিয়ে পারাপারে সহায়তার মাত্রা বাড়িয়ে দিলে ইরানও আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।এদিকে বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম ইলেকশন) আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে ইরান মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল -এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, তারা মনগড়া ও ভুয়া হামলার নাটক, মাইনের কথা প্রচার করছে। অথচ বাস্তব সত্য হলো সংঘাত শুরুর পূর্বের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরো বেশি পরিমাণ তেল পরিবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক মুখপাত্র ইরানের মাইন হামলার দাবিকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ থেকে ইতিমধ্যেই মাইন অপসারণ করেছে মার্কিন বাহিনী এবং ইরান কেবল মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।মার্কিন মুখপাত্র আরো জানান, প্রণালীটি এখনও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রয়েছে এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকেড বা অবরোধের কারণে ইরান সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের রসদ হারিয়ে যে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, একের পর এক এই জাতীয় হামলা তারই বহিঃপ্রকাশ।