→ আজ বাড়তে পারে ঢাকার তাপমাত্রা→ স্লিপার বাস চলে ভুয়া নম্বর প্লেটে→ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব’ করে পদত্যাগপত্রে নেওয়া হলো উপাচার্যের স্বাক্ষর!→ ডেঙ্গুতে এক দিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু→ নোয়াখালীতে নতুন কূপে পাওয়া গেছে গ্যাস
No icon

সাত দশক পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসাম থেকে বাংলাদেশে মিথানল

সাত দশক পর আবারও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযাত্রা শুরু হলো। আসামের ডিব্রুগড় থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে একটি পণ্যবাহী বার্জ। ভারতের স্বাধীনতার পর আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক নৌযাত্রার এটিই প্রথম ঘটনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সোমবার বগিবিল টার্মিনাল থেকে ডিএলবি পাটকাই নামের বার্জটি যাত্রা শুরু করে। কুশল কোঁওর নামের একটি টাগবোটের সহায়তায় বার্জটি বাংলাদেশের উদ্দেশে যাচ্ছে।যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়ক এবং ভারত ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, বহু দশক পর ডিব্রুগড়ে আবার স্টিমারের সিটি শোনা যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ডিব্রুগড়সহ উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক জলপথ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলো।আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ঘটনাটিকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, আসামের শিল্পে উৎপাদিত পণ্য এখন নদীপথ ব্যবহার করে দেশের বাইরে বাজারে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।

১,৩০০ কিলোমিটারের নৌযাত্রা

এই চালানের মিথানল উৎপাদন করেছে আসামের নামরূপের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (এপিএল)। বগিবিল থেকে বাংলাদেশের পানগাঁও পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের অংশে বার্জটি ব্রহ্মপুত্রের জাতীয় জলপথ-২ (এনডব্লিউ-২) দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ প্রটোকল (আইবিপিআর) রুট ব্যবহার করে পানগাঁও বন্দরে যাবে।ডিব্রুগড় থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্রহ্মপুত্রের ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। একসময় এই নদীপথে ডিব্রুগড় থেকে চা পরিবহন করা হতো। পরে রেলপথের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নদীপথে পণ্য পরিবহন কমে যায়। ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক ঘাটটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।সম্প্রতি বগিবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বগিবিলে যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল চালু হয়। এসব অবকাঠামো আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে ভারতের হলদিয়া থেকে গুয়াহাটির পান্ডুতে টাটা স্টিলের পণ্য পরিবহন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি গঙ্গা বিলাস ও এই পথ অতিক্রম করে। তবে আসাম থেকে সরাসরি কোনো বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন শিল্পে মিথানলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে আসাম থেকে সরাসরি নদীপথে মিথানল পরিবহনের এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীপথে পণ্য পরিবহন চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে কাজে লাগবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাণিজ্যিক নৌসেবা চালু রাখা, কাস্টমস ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া কতটা সহজ হয় এবং ফেরার পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা যায় কিনা- এসব বিষয়ের ওপর।